ছাত্রীদের হাত-পা টেপানোর নামে ধর্ষণ শেষে কোরআন শপথ করাতেন মাদ্রাসা শিক্ষক!

  • ৬-Jul-২০১৯ ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দেশে বাড়ছে ধর্ষণ। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে প্রতিবন্ধী নারী, এমনকি শিশু- কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। এক এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম কেঁপে ওঠছে নতুন আরেক ধর্ষণের খবরে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার হওয়ার পরদিন একই অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন নেত্রকোনার আরেক মাদরাসার প্রধান শিক্ষক।

গ্রেফতার শিক্ষকের নাম মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়ার আঠারবাড়ি এলাকার মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বা মুহতামিম।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়ার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্ট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ জুলাই) প্রধান শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ট এক শিক্ষার্থী তার বাড়ির লোকজনদের বিষয়টি বলে দেয়। এরপর এলাকাবাসী আটক করে ওই শিক্ষককে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। থানায় তার বিরুদ্ধে দুইটি ধর্ষণের মামলা হয়। জমা পড়ে প্রথম শ্রেণির আরও এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ।

থানায় শুরু হয় আবুল খায়ের বেলালীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অন্তত ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে নেন যাদের বয়স আট থেকে ১১ বছর। মাদরাসায় তার কক্ষ থেকে কলিং বেলটিও জব্দ করা হয়। আরও তথ্যের জন্য এই শিক্ষকের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা

এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ এনেছে ওই মাদরাসায় অধ্যয়নরত আবাসিক শিক্ষার্থীরা। হাত-পা টেপানোর নাম করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিজের কক্ষে ডেকে নিতেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই শিশুদের ধর্ষণ করতেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাদের পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁইয়ে শপথও করাতেন।

এডিশনাল এসপি ক্রাইম নেত্রকোনা নামের ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়া।

তিনি জানান, মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদরাসাটিতে শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন। এদের মধ্যে ১৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। মাদরাসাটির একটি কক্ষেই থাকেন এর প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের বেলালী।

এই প্রধান শিক্ষকের ঘরে রয়েছে একটি কলিংবেল। সুযোগ বুঝে দিনের যে কোনো সময় তিনি ওই কলিং বেল বাজান। এর মাধ্যমে নিজের কক্ষে হাত-পা টেপানোর জন্য ডেকে নেন পছন্দমতো কোনো ছাত্রীকে। যারা বয়সে সবাই শিশু। এরপর সেই শিশু শিক্ষার্থীকেই ধর্ষণ করেন তিনি। সবশেষে পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁইয়ে ওই ছাত্রীদের শপথ করার যেন তারা এই ঘটনা কাউকে না বলে। কাউকে বলে দিলে আল্লাহ তাদের দোজখের আগুনে পোড়াবেন।

ফলে দোজখের আগুনে পোড়ার ভয়ে শিশুরা কাউকেই কিছুই জানায় না। আর এভাবেই দিনের পর দিন ছাত্রীদের ধর্ষণ করে আসছেন আবুল খায়ের বেলালী।

Ads
Ads