নারী কেলেংকারিতে অভিযুক্ত ড. আরেফিনকে বাঁচাতে মরিয়া ইবি প্রশাসন এবং উপাচার্য

  • ৪-Jul-২০১৯ ০৬:০৬ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরেফিনের নারী কেলেংকারীর  লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অংশ এবং উপাচার্য ড. হারুন অর রাশিদ আসকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের একজন ছাত্রী লিখিতভাবে উপাচার্য বরাবর ড. আরেফিনের বিচার দাবি করে অভিযোগ দাখিল করেন গত বছরের অক্টোবর মাসের ৬ তারিখ। এরপর বিষয়টি নিয়ে  তদন্ত করা তো দূরে থাক,  আরেফিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন অর রশিদ আসকারীর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় ড. মাহবুবুল আরেফিনের বিরুদ্ধে কেউ কিছুই বলেন না। 

এমনকি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সাথে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক করে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার মানসিকতাসম্পন্ন  ড. আরেফিনের সঙ্গে তার দুইটা গোপন অডিও ক্লিপ ভোরের কাছে এসেছে। 
 ২৮ জুন ফাঁস হওয়া ফোনলাপ  যেগুলো গণমাধ্যমে পাঠকদের সামনে তুলে ধরলে শিক্ষক এবং ছাত্রীর মধ্যে যে জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটা নষ্ট হতে পারে বলে সেগুলো প্রকাশ করা যায়নি।  লিখিত অভিযোগে মেয়েটি অনেক কথাই লিখেছেন, মেয়েটির নাম অস্পষ্ট করে অভিযেগপত্রটি ভোরের পাতার পাঠকদের জন্য দেয়া হলো।  এদিকে  বিচার চেয়ে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে অনেক আগেই  কিন্তু এতদিন তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু গত ২৮ জুন প্রফেসর আরেফিনের দুইটা অডিও ফঁস হয় সেখানে সে ওই ছাত্রীর সাথে অশালীন এবং ঘনিষ্ঠ কথা বার্তা বলছে প্রামানিত হয় কিন্তু তারপরেই ইবি প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রগতিশীল একজন শিক্ষক বলেন আরেফিন ভাইস চ্যান্সেললের অনেক কাছের মানুষ এবং শিক্ষক সমিতির চাপের কারনেই তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারছে নাহ ইবি প্রশাসন। নারী কেলেংকারী ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাদিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  গত বছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আপন ভাই ড. দেলোয়ার হোসেনকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিতে  গিয়ে বিতর্কিত হয়ে দূর্নীতিবাজ ‘কালো শিক্ষক’ হিসেবে চিহ্নিত হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের এই শিক্ষক। সেই ঘটনায় কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২ তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তথ্য গোপন অভিযোগে ও নৈতিকতা বিরোধী চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞ সদস্য হতে অপসারণ ও আজীবনের জন্য দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের কালো তালিকাভুক্ত করণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কর্মাকান্ড হতে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রফেসর ড. আরেফিনের বিষয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট দাপ্তরিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল’।

নারী কেলেংকারিতে অভিযুক্ত ড. মাহবুবুল আরেফিনের বক্তব্য জানার জন্য এ প্রতিবেদক ভোরের পাতার অফিসের নম্বর থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল বিকাল ৫ টা ৩৮ মিনিটে কল করলে অভিযুক্ত শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কেলেংকারি ফাঁস হওয়ার পর থেকেই আরেফিন তার ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোন অপারেটরের নম্বরটি বন্ধ রেখেছেন। 

একই বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে বিকাল ৫ টা ৫৩ মিনিটে কল করা হলে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। 

এমনকি উপাচার্য ড. হারুন অর রাশিদ আসকারীকে ফোন দেয়া হয় ভোরের পাতার অফিস থেকে বিকাল ৫ টা ৫৬ মিনিটে। তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন প্রভাবশালী নেতার দূরত্ব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আওয়ামী লীগ নেতা তার আত্নীয় স্বজন ও লোকজন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। এ নিয়ে চলমান ভিসি এবং আওয়ামী লীগ নেতার গোপন বিরোধে স্থবিরতা, অস্থিশীলতা নিয়ে আগামী পর্বে ভোরের পাতায় নিউজ আসছে। 

Ads
Ads