বিমানসেবা অতিরিক্ত করের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক

  • ৩০-Jun-২০১৯ ১০:৩১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বিগত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক উন্নতি ঘটছে। আর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর। সরকারের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার একাংশ হচ্ছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আকাশপথের  সেবায় এসেছে অনেক পরিবর্তন। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও প্রায় সময়ই কিছু রাস্তায় যানজট সমস্যার কারণে এবং সময়ের কারণে আকাশপথের সেবা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট  লেগে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের এভিয়েশন নীতির কারণে বেশকিছু বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এভিয়েশন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। আর এর ফলে বাংলাদেশের আকাশ পথে সেবা খাতে পরিবর্তন আসছে। এসব বিভিন্ন কারণে আকাশপথের সেবা গ্রহণের গুরত্বও বেড়ে গেছে। 

বাংলাদেশের রফতানির প্রধান চালিকা শক্তি গার্মেন্টস, ওষুধ, বিভিন্ন রফতানি শিল্পসমূহ এবং তাদের বিদেশি ক্রেতা ও করপোরেট ব্যক্তিদের সময়ের প্রয়োজনে শিল্প ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চার্টার্ড বিমান এবং হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। কিন্তু আগামী অর্থ বছরের বাজেটে চার্টার্ড বিমান এবং হেলিকপ্টার ভ্রমণে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এখন গ্রাহককে প্রতি একশ টাকা ভাড়ায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হবে ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এখানে একশ টাকার উপর ২৫ শতাংশ শুল্কসহ ভাড়া হয় একশ ২৫ টাকা এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশসহ ভাড়া দাঁড়ায় একশ ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এতে কোম্পানিসমূহের পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে যা প্রভাব ফেলবে সম্ভাবনাময় শিল্পে, কর্মসংস্থানে এবং রাজস্ব আয়ে।

এই অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে বিমানপথের এই সেবাখাতে দেখা দিতে পারে বিপর্যয়। এই অতিরিক্ত কর বিভিন্ন শিল্পখাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে থাকলে এই খাত থেকে দেশের বড় একটা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা থাকে। আমরা আশা করি, বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেবে সরকার।

Ads
Ads