সর্বমহলে প্রশংসিত জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নানা উদ্যোগ 

  • ২৫-Jun-২০১৯ ১১:২৭ অপরাহ্ন
Ads

ষড়যন্ত্রকারীদের উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনবান্ধব এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো শক্ত হাতে দূর করেছেন। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের গঠনমূলক পরিবর্তনের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রূপকল্প বাধাগ্রস্থ করতে একদিকে যেমন উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা শুরু করেছে, পাশাপাশি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করছে। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

বর্তমান চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর সারা দেশে অবৈধ দখলে থাকা কর্তৃপক্ষের প্রায় ৭০০ একর জায়গা উদ্ধার করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে তিনি অনেকেরই চক্ষুশূল হয়েছেন। সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ১২৫০ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করেছেন মর্মে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় তার প্রশংসা করে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সেবা সহজীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রাতারাতি এসব আমূল পরিবর্তন দেখে স্বার্থান্বেষী মহলের রীতিমতো আতে ঘা লেগে যায়। সেজন্যই মহলটি নানা মিথ্যাচার করে বর্তমান চেয়ারম্যানকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মহলটির একটিই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, বর্তমান চেয়ারম্যানকে গৃহায়ণ কর্তপক্ষ থেকে অপসারণ করা। 

মিরপুরস্থ সেকশন-১০, ব্লক-এ, রোড-১ এর ৯নং আবাসিক প্লটটি ১৯৬০ সনে বরাদ্দ প্রদানসহ লিজ দলিল সম্পাদিত হয়। পরবর্তীতে ওয়ারিশসূত্রে নামজারি, পুনঃনির্মাণ আর বন্ধক অনুমতি প্রদান করা হয়। এখানে প্লটটি নাম জারির সময় মিরপুর হাউজিং এস্টেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম সামছুদ্দোহা পাটোয়ারীর নিকট প্রতিবেদন চাওয়া হলে তিনি প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয় উল্লেখপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতায় প্লটের সকল কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। এছাড়া তৎকালীন সময়ের সহকারী মোস্তফা কামাল শাহীন সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিয়ে নথি উপস্থাপন করেন, যা অনুমোদিত হয়। 

এদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্তৃপক্ষে দীর্ঘদিন কর্মরত ১৬১ জন ওয়ার্কচার্জ কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো যৌক্তিক কারণে বরাদ্দকৃত প্লটের দখল গ্রহীতাকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলে সে ক্ষেত্রেই কেবল যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে। চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাবলে কোনো প্লট বরাদ্দ অথবা বিকল্প বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যানের একক দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে। এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ নিয়ম বহির্ভূত কোনো কাজ আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়। কোনো যড়যন্ত্রের কাছে আমি মাথা নত করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। ইনশাল্লাহ। চক্রান্তকারীদের এটা আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাখলাম।’

নিয়ম অনুযায়ীই রাজশাহীর তেরো খাদিয়া প্রকল্পে ৫০টি প্লট বরাদ্দের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এরপর দরখাস্ত যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়। কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত অডিটরিয়ামে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে দায়িত্বে অবহেলা ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বদলি করা হয়। এদের অনেকেই অফিস চলাকালীন অফিসকক্ষেই মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। অফিসের গোপন তথ্য পাচার, নথির ফটোকপি প্রদান, এমনকি ডাক ও টেলি যোগাযোগমন্ত্রীর মোহাম্মদপুরের বাড়ি উচ্ছেদের তথ্যও পাচার করে, যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে এবং তেজগাঁও থানায়  গ্রেফতার হয়। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে বেশ কয়েকদিন হাজতবাসও করে।

এছাড়াও জয়নগর ফ্ল্যাট প্রকল্পে অনৈতিকভাবে অর্থ প্রদানের বিষয়টি চেয়ারম্যানের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটির সুপারিশ ও কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুনিফ আহম্মেদ (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী)-এর দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। চেয়ারম্যানের সাহসী উদ্যোগের কারণে যে সমস্ত স্বার্থান্বেষী মহলের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। এরাই বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানকে হেয় প্রতিপন্ন করার নামে ‘উদর পিণ্ডি  বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম বলেন, সৎভাবে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার সম্পর্কে স্বার্থান্বেষী মহল যা খুশি তা করুক, আমি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইনি, ঘটাতেও দেবো না।

Ads
Ads