গোবিন্দগঞ্জে নিম্নমানের চাল কেলেংকারি: জনগণের তোপের মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

  • ২৪-Jun-২০১৯ ০৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
Ads

::উৎপল দাস::

জনগণের বাঁধার মুখে গোবিন্দগঞ্জ খাদ্যগুদামে নিম্নমানের ২ ট্রাক চাল প্রবেশ করাতে ব্যর্থ  হয়েছেন উপজেলা খাদ্য কমিটি ও প্রশাসনের একটি সিন্ডিকেট। রোববার দিবাগত রাত ২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত কুঠিবাড়ি এলাকায় খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল প্রবেশ করানো হচ্ছেে এমন খবর পেয়ে সচেতন এলাকাবাসী বাঁধা সৃষ্টি করে। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রতক্ষ্যদর্শী টেলিফোনে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকে জানান,  রাত ২ টার দিকে আমরা খবর পাই যে উপজেলা চেয়ারম্যানের বড় ভাই বাবলু প্রধানের লোকজন খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল ঢুকাচ্ছে। যেগুলো কয়েকদিন দিন পরই গোবিন্দগঞ্জের বাজারে বিক্রি করা হতো। এমন অন্যায়ে বাধা না দিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে, সেই ভাবনা থেকেই বাঁধা দেয়া হয়েছে। 

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এক প্রতক্ষ্যদর্শী বলেন, এই বাবুল প্রধান মাত্র কয়েকমাস আগেই উপজেলা খাদ্য কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার আপন ছোটভাই লতিফ প্রধান উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরই তাকে এই পদে বসানো হয়। এরপরই নানা দুর্নীতি করতে শুরু করেন এই বাবলু প্রধান। সর্বশেষ রোববার দিবাগত রাতে নিম্নমানের ২ ট্রাক চাল আটকে দেয়ার পর বাবলু প্রধান বাধাদানকারীদের  ভবিষ্যতে দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। 

হট্টগোলের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন ঘুম থেকে উঠে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার রোষানল বাড়তে পারে এই আশংকায় বাবলু প্রধানকে সুকৌশলে এলাকা ছাড়ার গোপন পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এমনকি  স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন নিজেও এইসব দুর্নীতিবাজ নেতাদের পক্ষে রয়েছেন। 

তবে, বাবলু প্রধানের পাঠানো নিম্নমানের চাল ভর্তি ট্রাক দুটো নিজের জিম্মায় নিয়েছেন ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মন। এই চালগুলো বাজারে যাবে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। 
 এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ প্রতিবেদক ভোর ৪ টা ৫৮ মিনিটে ভোরের পাতা অফিস থেকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া অভিযুক্ত বাবলু প্রধানের ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি উপজেলা চেয়া্রম্যান লতিফ প্রধানকেও ভোর ৫ টা ১ মিনিটে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।  তবে এলাকার অনেক সচেতন মানুষ ভোরের পাতাকে বলেছেন, এমন দুর্নীতিবাজ লোককে খাদ্য কমিটির চেয়ারমান করা হলে আমাদের মতো সাধারণ জনগণকেই পাহাড়া দিতে হবে খাদ্য গুদাম। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতাও রয়েছে। সেটি কাটিয়ে উঠে জনগণের সেবা করতে ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। 

Ads
Ads