আওয়ামী লীগের জাগরণ ও স্বাধীন বাঙালি জাতিসত্তার প্রকাশ

  • ২৩-Jun-২০১৯ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আজ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এদিনে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দেশের সর্ব বৃহৎ  এ দলটির ৭০ বছর শেষ করে ৭১ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৪৯ সালের এদিনে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের জনআকাক্সক্ষা ও গণমানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়। তাই দেশের অনেকেই মনে করেন, আওয়ামী লীগের অর্জন পাকিস্তান আমলের গণতান্ত্রিক মানুষের অর্জন, এই দলের অর্জন বাংলাদেশের অর্জন। জাতির জন্য যখন যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটিই দলটি রূপায়ন করেছে। যেখানেই যে জন আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখা গেছে, সেখানেই এ দলটিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাঁড়াতে দেখা গেছে। 

মূলত মুসলিম লীগের হঠকারিতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অপশাসন এবং ভিন্নমতের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের উন্মেষ হয়েছিল। উন্মেষলগ্নে, ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলনে গৃহীত খসড়া ঘোষণাপত্রে ‘মূল দাবি’তে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের দুই ইউনিটের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছিল। সম্মেলনে গৃহীত ১২ দফা :

‘১. পাকিস্তান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হবে। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হবে জনসাধারণ।
২. রাষ্ট্রে দুটি আঞ্চলিক ইউনিট থাকবে পূর্ব ও পশ্চিম।
৩. অঞ্চলগুলো লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। প্রতিরক্ষা-বৈদেশিক সম্পর্ক ও মুদ্রা ব্যবস্থা কেন্দ্রের হাতে থাকবে এবং অন্য সব বিষয় ইউনিটগুলোর হাতে ন্যস্ত থাকবে।
৪. সরকারি পদাধিকারী ব্যক্তিরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা অধিকারভোগী হবেন না কিংবা প্রয়োজনাতিরিক্ত বেতন বা ভাতার অধিকারী হবেন না।
৫. সরকারি কর্মচারীরা সমালোচনার অধীন হবেন, কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থতার জন্য তাদের পদচ্যুত করা যাবে এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে তাদের ছোটখাটো বা বড় রকমের সাজা দেওয়া যাবে। আদালতে তারা কোনো বিশেষ সুবিধার অধিকারী হবেন না। কিংবা আইনের চোখে তাদের প্রতি কোনোরূপ পক্ষপাত প্রদর্শন করা হবে না।
৬. জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন যথা বাকস্বাধীনতা, দল গঠনের স্বাধীনতা, অবাধ গতিবিধি ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার।
৭. সকল নাগরিকের যোগ্যতানুসারে বৃত্তি অবলম্বনের অধিকার থাকবে এবং তাদের যথাযোগ্য পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
৮. সকল পুরুষ ও নারীর জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
৯. পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোতে সকল নাগরিকের যোগদানের অধিকার থাকবে। একটি বিশেষ বয়সসীমা পর্যন্ত সকলের জন্য সামরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর ইউনিট গঠন করা হবে।
১০. মৌলিক মানবিক অধিকারসমূহ দেওয়া হবে এবং কোনো অবস্থাতেই কাউকে বিনা বিচারে আটক রাখা হবে না। বিনা বিচারে কাউকে দ-দান বা নিধন করা হবে না।
১১. বিনা খেসারতে জমিদারি ও অন্য সকল মধ্যস্বত্ব বিলোপ করা হবে। সকল আবাদযোগ্য জমি পুনর্বণ্টন করা হবে।
১২. সকল জমি জাতীয়করণ করা হবে।’

সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ভূমি সংস্কার বিনা খেসারতে জমিদারি উচ্ছেদ এবং প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টন, যৌথ খামার ও সমবায় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সকল শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ, শিল্প-কারখানা পরিচালনায় শ্রমিকদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, শ্রমিকদের সন্তানদের বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং তাদের ধর্মঘটের অধিকার প্রভৃতি।

এছাড়া দেশের শিল্পায়ন, শিক্ষার বিস্তার ও নারীর অধিকারের কথাও প্রথম ঘোষণাপত্রে লিপিবদ্ধ ছিল। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, প্রথম ঘোষণাপত্রের ২২ দফা

আশু কর্মসূচির ১৮নং দফায় আওয়ামী লীগ ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সাথে সম্পর্কোচ্ছেদ এবং ১৯নং দফায় ‘আগামী তিন মাসের ভিতরে জাতিসংঘ গণভোট দ্বারা কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না করিলে পাকিস্তান কর্তৃক জাতিসংঘ ত্যাগ।’-এর ঘোষণা দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের প্রথম ঘোষণাপত্রের মর্ম বুঝতে হলে দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনমনস্তত্ত্ব এবং চেতনার ধাপ সর্বোপরি প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যেও আদর্শগত টানাপড়েন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। প্রথমেই বলেছি, আওয়ামী লীগ সব সময়েই এদেশের জনআকাক্সক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আন্দোলনেই জাগ্রত ছিল। এ প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন যে, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে এদেশের মানুষ কিন্তু একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলারই স্বপ্ন দেখেছিল। যদিও সে স্বপ্ন পূর্ব বাংলা, পশ্চিম বাংলা, আসাম প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে একটি অখণ্ড ভূমির লক্ষ্যে জাগ্রত ছিল। শেষ পর্যন্ত তা সফল না হলেও ভিতরে ভিতরে কিন্তু বাঙালির মনের কোঠায় সেই স্বপ্নই থেকে গিয়েছিল। আর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছর শেষেই সেই স্বপ্নের আলোকেই মূল আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছিল। যা ধীরে ধীরে এ দেশের সময়োপযোগী আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে সে স্বপ্নের প্রসারণ ঘটতে থাকে এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, সর্বোপরি ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ সবই নিহিত ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্যে। 

তবে আমাদের এও বিবেচনায় রাখতে হবে, মুসলিম লীগের জরায়ুতেই ‘আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম। এ সত্যটি কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না। ১৯৪৯ সালে যারা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তারা প্রায় সবাই ছিলেন ১৯৪৭-এর আগের নিখিল ভারত তথা অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের সদস্য বা কর্মীবাহিনী। দেশভাগের আগেই, পাকিস্তান আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখনই বেঙ্গল মুসলিম লীগে রক্ষণশীল ও উদারনীতির অনুসারী দুটি অংশের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন সৃষ্টি হয়েছিল। উত্তর ভারতের অভিজাত ও প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগ নেতারাই কার্যত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিল। এদের ছত্রছায়ায় ছিল বেঙ্গল মুসলিম লীগের জমিদার, সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল অংশের প্রতিনিধিত্বকারী খাজা নাজিমুদ্দিন গ্রুপ। আর এর বিপরীতে ছিল অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল এবং উদারপন্থি অংশ। ১৯৪৭ সালে এই অংশটিই সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বাংলাভাগের বিরুদ্ধে ছিল। এই অংশটি তখন দলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। বেঙ্গল মুসলিম লীগের অফিসিয়াল নেতৃত্ব ছিল সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। বেঙ্গল কংগ্রেসের নেতা শরৎবোস (নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বড় ভাই) এবং প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা কিরণ শঙ্কর রায় এবং মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম গ্রুপ বাংলাকে ভাগ না করে ‘অখণ্ড সমাজতান্ত্রিক বাংলা’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তারা স্বাধীন অখণ্ড বাংলার সংবিধানের একটা রূপরেখাও প্রণয়ন করেছিলেন। কিন্তু বেঙ্গল কংগ্রেসের হিন্দুত্ববাদী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে হিন্দু জমিদার, বড় ব্যবসায়ী, উচ্চবিত্ত, বর্ণহিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাভাগের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মুসলিম লীগ ভারত ভাগ করে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা তথা ভারত ভাগের আনুষ্ঠানিক দাবি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল এ কথা সত্য। কিন্তু রেডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী বাংলাভাগের ব্যাপারে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বঙ্গীয় আইনসভার কংগ্রেস দলীয় সদস্যগণ (কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টি) এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। আর তাতেই যুক্ত বাংলা করার উদ্যোগ রসাতলে যায়।

এদিকে বাংলাভাগ ঠেকাতে না পারায় মুসলিম লীগের নেতৃত্বও সোহরাওয়ার্দী আবুল হাশিম গ্রুপের হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খাজা নাজিমুদ্দিন। ফলে মুসলিম লীগে সোহরাওয়ার্দীর অনুসারীরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দলের নেতৃত্ব থেকেই বাদ পড়েন নি, তারা শাসক মুসলিম লীগের নির্যাতনের শিকারে পরিণত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই সোহরাওয়ার্দী অনুসারী মুসলিম লীগের নেতৃস্থানীয় সদস্যরা ১৫০ মোগলটুলিতে অফিস বা ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। তারা মুসলিম লীগ কর্মী শিবির নাম দিয়ে এই অফিস চালু করেন। বস্তুত দেশভাগের পর এই কার্যালয়টিই হয়ে ওঠে অফিসিয়াল মুসলিম লীগের প্রতিপক্ষ এবং প্রগতিশীল অংশের আশ্রয়কেন্দ্র এবং সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।

অন্যদিকে আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানী আসাম ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসেন। সিলেটকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার গণভোটে আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানীর ছিল উদ্যোগী ভূমিকা। অথচ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মওলানা ভাসানীকে নাজিমুদ্দিনের মুসলিম লীগ উপেক্ষা করে।

স্বাভাবিকভাবেই মওলানা ভাসানী ১৫০ মোগলটুলির মুসলিম লীগ কর্মীদের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। পাকিস্তান সরকার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে পূর্ব পাকিস্তানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তার প্রদেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আর এভাবেই এ দেশে মুসলিম লীগ ক্রমশ জাতীয় শত্রুতে পরিণত হয়। আর এই শত্রুতা থেকেই উন্মেষ ঘটে এ দেশের জনআকাক্সক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আওয়ামী মুসলিম লীগের। যা পরবর্তীতে আরও আসাম্প্রদায়িকতার প্রতিফলন ঘটাতেই আওয়ামী লীগ নামকরণের মধ্যদিয়ে একটি পৃথক জাতিসত্তা স্বাধীন বাঙালির জাগরণ ঘটে। 

সেই জাগরণের পটভূমিতেই ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার টিকাটুলির রোজ গার্ডেন প্রাঙ্গণে মুসলিম লীগের গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন মওলানা ভাসানী। এই সম্মেলন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। দলের উদ্বোধনী অধিবেশনে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকও উপস্থিত ছিলেন। কথা ছিল তিনিও আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন। কিন্তু পরে তিনি অজ্ঞাত কারণে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

সম্মেলনে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। আর কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২৪ জুন সম্মেলন শেষে আরমানিটোলা মাঠে আওয়ামী লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন মওলানা ভাসানী। আগেই বলেছি, এই সম্মেলনে শামসুল হকের ১২-দফা মূল দাবি গৃহীত হয়। পরবর্তীতে খসড়া ম্যানিফেস্টো রচিত হয়। আর এভাবেরই এদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত জনগণের জনআকাক্সক্ষার এক মজবুত ভিত গড়ে ওঠে আওয়ামী লীগের মধ্যে। যা পরবর্তীতে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে ধাপে ধাপে একেকটি আন্দোলনের চৌকাঠ পেরিয়ে বাঙালি জাতি হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তি ঘটে ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। আর তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কানায় কানায় সাফল্যে ৭০ বছরে পদার্পণের মধ্যদিয়ে সর্বকালের এক অবিসংবাদিত দলে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ।   

Ads
Ads