কেরোসিন দিয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, আটক ৬

  • ১৭-Jun-২০১৯ ১০:০৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় নরসিংদীর হাজিপুরে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতের পর এবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে নিহত জান্নাতির বাবা বাদী হয়ে শ্বাশুড়ি শান্তি বেগমকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। 

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত জান্নাতির শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, স্বামী ও ননদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালত সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও দীর্ঘ ৫১ দিন তদন্ত শেষে রোববার আদালতে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। ফরেনসিক রিপোর্ট ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করবেন বলে জানান পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা।
 
মামলার আসামিরা হলেন- নিহত জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগম, স্বামী শিপলু ওরফে শিবু, ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া। সবাই চর হাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেন। তারা হলেন- মাদক ব্যবসায়ী শান্তি বেগমের বোন সাথী আক্তার, দেবর নওসের মিয়া, খালা পারুল বেগম, খালাতো ভাই টিউলিপ, মামা রতন মিয়া ও  খালাত ভাই জাহাঙ্গীর।

মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্র বলছে, প্রায় এক বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের মেয়ে জান্নাতি আক্তারের সঙ্গে খাচেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পর পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। গৃহবধূ জান্নাতিকে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে শাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু চাপ প্রয়োগ করেন।

এতে রাজি হননি জান্নাতি। তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। জান্নাতির দরিদ্র পরিবার যৌতুকের দাবি পূরণ করতে পারেনি। ফলে জান্নাতির ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দেয়াসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় ২১ এপ্রিল রাতে স্বামী শিপলু, শাশুড়ি শান্তি বেগম ও তার মেয়ে ফাল্গুনী বেগম ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি তারা। পরে এলাকাবাসীর চাপে জান্নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ৩০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতির মৃত্যু হয়।
 
মামলার বাদী শরীফুল ইসলাম খান বলেন, আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। দেরি করে হলেও পিবিআই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশের কাছে আমার দাবি এজহারভুক্ত সব আসামিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব রহস্য বেরিয়ে আসবে। 

সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন, থানায় মামলার পর পরই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমি বাদীকে হত্যাকাণ্ডের পরই বাসায় গিয়ে বলি থানায় মামলা করতে কিন্তু তিনি রাজি হননি। সবশেষ বাদী থানায় মামলা করায় আমরা আসামিদের ধরেছি। 

নরসিংদী পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসপি এ আর এম আলিফ জানান, জান্নাতি হত্যা মামলায় আদালতে রোববার দুপুরে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনে এ মামলায় অভিযুক্ত জান্নাতির শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও ননদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে। তবে সবকিছু তদন্ত করতে একটু সময় লেগেছে। 

Ads
Ads