সংসদে সেই শাহরিয়ারকে নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

  • ১২-Jun-২০১৯ ০৯:৫০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আড়ংকে জরিমানা করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের হঠাৎ বদলির আদেশ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও কয়েক ঘণ্টা পর তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।

বুধবার (১২ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মকর্তার অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ একটা ব্যবস্থা নেয়া হলো। আমার কাছে সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমি আজকেই বলে দিচ্ছি তাকে (মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার) আবারও ওই দায়িত্বই দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের (বীর উত্তম) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

৭৩০ টাকার পাঞ্জাবি সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ দামে বিক্রির দায়ে রাজধানীর উত্তরায় দেশীয় ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটে ৩ জুন অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। পরে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করে আউটলেটটি বন্ধ করে দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আবার সেটি খুলে দেয়া হয়। ওই ঘটনার পর মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে খুলনায় বদলির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ পায়। পরে সেই আদেশ বাতিল করা হয়। যদিও মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য ছিল, আদেশটি আগেই তৈরি করা হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে জরিমানার ঘটনার দিন প্রকাশ হয়।

আড়ংয়ের ঘটনা উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোজার সময় যদিও আমি দেশের বাইরে ছিলাম, তখনো বেশ কিছু বড় বড় জায়গায় হাত দিল বলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ একটা ব্যবস্থা নেয়া হলো। আমার কাছে সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছোট-খাটোদের ধরতে পারবে, আর বড় অর্থশালী সম্পদশালী হলেই তাদের হাত দেয়া যাবে না, তাদের অপরাধ অপরাধ না-এটাতো হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজকেই বলে দিচ্ছি তাকে (মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার) আবারো ওই দায়িত্বই দিতে হবে। কারণ খুব দামি দামি জায়গা, তাদের যে খারাপ কিছু থাকবে না বা হবে না যারা ওগুলোর মালিক তারাও তো এই গ্যারান্টি দিতে পারেন না। সেখানে কেন পরীক্ষা করতে পারবে না, পরীক্ষা করার অধিকারটা কেন থাকবে না?’

অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অপরাধী সে অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন বড় বড় জায়গা আছে যেখানে হাত দিলেই দেখা যায় হাতটা পুড়ে যাচ্ছে এবং যারা এই কাজটি করতে যায় তারা অপরাধী হয়ে যায়।’

দুর্নীতি দমন সংস্থার মধ্যে অনেকেই দুর্নীতিব্যাধিতে আক্রান্ত বলে জনশ্রুতি আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একেবারেই মিথ্যা না। সবাইতো ধোয়া তুলসীপাতা না। আর এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না যে সবাই একশভাগ ভাগ সৎ হবে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে যেন জনগণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্থাকে এখন থেকে সচেতন হতে হবে যারা কাজ করবে তাদের ব্যাপারেও যেন সতর্ক থাকে, তারাও যেন এমন কোনো কাজ না করে যাতে এমন জনশ্রুতি সৃষ্টি না হয়। এখানে একটা ব্যাপার আছে, দুনীতি দমনই বলেন বা খাদ্য নিরাপত্তার কথাই বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন বড় বড় জায়গা আছে যেখানে হাত দিলেই হাতটা পুড়ে যাচ্ছে। এবং যারা এই কাজটি করতে যায় তারা অপরাধী হয়ে যায়। আর কিছু পত্রপত্রিকাতো আছে, এটা নিয়ে লেখালেখি শুরু করে। সেখানেও আমি নিজে মনে করি-আমাদের সচেতন থাকা উচিত। সঠিক কাজটা করেছে কিনা সেটা দেখে তারপর বিচার করা উচিত। কোন পত্রিকা কী লিখল কে কী বলল সেটায় কান না দেয়া।’

বেগম রওশন আরা মান্নানের (নারী আসন-৪৭) অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি আমরা করব না, করতে দেয়া হবে না। ঘুষ যে গ্রহণ করবে ঘুষ যে দেবে উভয় অপরাধী। শুধু ঘুষ নিলে যে তাকে ধরা হবে তা না, যে দেবে তাকেও ধরা হবে। কারণ দেয়াও অপরাধ। সেভাবেই কিন্তু বিচার হবে। অপরাধে উস্কানিদাতা, মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে চাই। সেজন্য দলমত নির্বিশেষে সকল সংসদের সহযোগিতা কামনা করি। এই ব্যাপারে সবাই যদি এক হয়ে কাজ করি তাহলে অবশ্যই সমাজ থেকে অনিয়মগুলো দূর করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারব।’

Ads
Ads