এক বউয়ের দুই স্বামী ...অতপর! 

  • ১২-Jun-২০১৯ ০৮:০২ অপরাহ্ন
Ads

:: নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ::

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকায় গত রোবরার ঘটে গেল এক আজব ঘটনা। এক স্বামীকে রেখে অন্য স্বামীর সঙ্গে বিয়ে। বিয়ের আসরে দ্বিতীয় স্বামী গেলো স্ত্রীকে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তখন ঘটনাস্থলে প্রথম স্বামী এবং মেয়ের পরিবারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ধাওয়া দেন দ্বিতীয় স্বামী আরমান মোল্লাকে। 

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ধাওয়া দেওয়ার সময় তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে করে আরমান মোল্লাসহ তার সাথের নিকট আত্মীয় অনেকে ঘটনাস্থলেই আহত হন। তারা হলেন- রমিজউদ্দিন মোল্লা, সাইফুল ইসলাম, আওলাদ মোল্লা, মো. রাজু প্রমুখ।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর বিবাহ করেন জুয়েল এবং স্বপ্না আক্তার। ছেলে (প্রথম স্বামী জুয়েল) মেয়ে স্বপ্না আক্তার উভয় পরিবারকে না জানিয়ে তারা নিজেরাই ‘ল্যাভ মেরেজ’ করেন। গোপনে সংসারও করেন দীর্ঘ দিন যাবত। এরপর ২০১৯ সালের ২১ মে আবারও স্বপ্না আক্তার (১৯) ‘ল্যাভ মেরেজ’ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার দেলপাড়া এলাকার আরমান মোল্লাকে (২৫)।

দীর্ঘ ২৫ দিন তারা এক সঙ্গে পালিয়ে সংসার করার পর উভয় পরিবার ছেলে মেয়েকে মেনে নেয়। ঈদের আগের দিন (২ মে) মেয়ের পরিবার (স্বপ্না আক্তারকে) তাকে বাড়িতে নিয়ে যায় ঈদ উপলক্ষে। স্বপ্না তার বাড়িতে যাওয়ার পর দুইদিন ২য় বর স্বামী আরমান মোল্লা সঙ্গে ভালোই আলাপন হয়। এরপর হঠাৎ করে স্বপ্না তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে স্বামীর আরমান মোল্লার ফেসবুকে বেশ ক’টি এসএমএস বার্তা আসে। সেখানে লেখা... ‘আমাকে নিয়ে যাও। না হলে আমি আমার জীবন দিয়ে দিবো। জানিনা কিছু যেইভাবে পারো আমাকে নাও। কীভাবে আমাকে নিবে’। বলে উল্লেখ করে স্বপ্না আক্তার।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী ২য় বর মো. আরমান মোল্লা এ প্রতিবেদককে জানান, চলতি বছরের (২১ মে) নারায়ণগঞ্জ আদালত মোকাম বিজ্ঞ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আড়াইহাজার উপজেলার গহরদী এলাকার প্রবাসী কবির হোসেনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে ২০ হাজার টাকা ওয়াশিল দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিবাহের পর কনের পরিবারের লোকজনও তা মেনে নেয়। পরে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে (৪ জুন) আমাকে নানা ভাষায় হুমকী দেয়। এরপর আমি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। যাহার নং- ৩১০। উক্ত ডাইয়েরির বিষয়টি ফতুল্লা থানার ওসি আড়াইহাজার থানার ওসিকে অবহিত করেন।

আরমান মোল্লা আরও জানান, রোববার বিকেলে আড়াইহাজার থানার এসআই আতাউরসহ আমরা কনের বাড়িতে যাই। এ সময় পুলিশের সামনেই তারা আমার বাবাসহ অন্যন্যদের ওপর হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে এসআই আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।  এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলে আড়াইহাজার থানার সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম কনে পক্ষের পরিচিত এক স্থানীয় যুবলীগ নেতার সামনে আমাকে লাহ্নিত করেন এবং বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে নিজের ইচ্ছেমত একটি জিডি লিখে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। তিনি প্রতিবেদককে আরও জানান, থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের রুমে স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, আমরা পুলিশের পক্ষকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার ছিল, তা করেছি। আরমান মোল্লা আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জানিয়েছেন এসব অভিযোগ সঠিক নয়। সে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

Ads
Ads