পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল ব্যাপক সংঘর্ষে নিহত ৪

  • ৯-Jun-২০১৯ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণায় ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। এতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলার সন্দেশখালি এলাকার ন্যাজাটে দলীয় পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

সংঘর্ষের শুরুতে বিজেপি কর্মীরা কায়েম মোল্লা নামের ২৬ বছর বয়সী এক তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিহত কায়েম তাদের দলের সমর্থক বলে জানিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও রাজ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

তৃণমূল কর্মীদের গুলিতে তাদের দলের পাঁচ কর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। নিহতদের মধ্যে তিন জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে ও বাকি দু’জনের মৃতদেহ পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

নিহত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সুজিত মণ্ডল, তপন মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলের লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া তাদের চার কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে শঙ্কর মণ্ডল ও দেবদাস মণ্ডল নামে দু’জন নিহত হয়েছেন, এমন খবর তারা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বসু। 

নিহতের সংখ্যা কম দেখাতে পুলিশ ওই দু’জনের ‘লাশ গুম করার চেষ্টা করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অপরদিকে তৃণমূল নেতা মল্লিক জানিয়েছেন, তাদের কর্মী কায়েম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

“বিজেপির হার্মাদরা তাকে মেরেছে। মাথায় গুলি করেছে। বিজেপি যদি মারার রাজনীতি শুরু করে আমরাও ছাড়বো না,” তিনি এমনটিই বলেছেন বলে প্রকাশিত উদ্ধৃতিতে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

সন্ধ্যায় সন্দেশখালিতে তৃণমূলের বুথ কমিটির বৈঠক হচ্ছিল। যে পার্টি অফিসে এ বৈঠক হচ্ছিল সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো ছিল। তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির পতাকা খুলে তৃণমূলের পতাকা লাগানোর চেষ্টা করার সময় বিজেপি কর্মীরা বাধা দেয়।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বচসার সময় একটি গুলি এসে কায়েমের গায়ে লাগে বলে জানিয়েছেন মল্লিক। এর পরই দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষে চার জন নিহত হওয়ার পাশাপশি উভয় দলের বেশ কয়েক জন কর্মীও আহত হয়েছেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল আশ্রিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বেই এ ঘটনা ঘটেছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

শনিবার রাতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোন আসে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কাছে। মুকুল রায় টুইট করে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাবে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল।

রাজ্য বিজেপি রোববার সন্দেশখালীর ঘটনা নিয়ে বৈঠকে বসবে। সন্দেশখালীতে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। দিল্লি থেকেও দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানো হতে পারে।

তা ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে সন্দেশখালীর ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছেন মুকুল রায়।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, বিজেপিই আমাদের কর্মীকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে কুপিয়ে খুন করে। দলের ছয় নারী কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মিনা খাঁ ও বসিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে গেলেও প্রথমে সেখানে ঢুকতেই পারেনি। পরে বসিরহাট থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

Ads
Ads