বয়স লুকিয়ে যাকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন বিদ্রোহী ছাত্রলীগ নেত্রী বি এম লিপি আক্তার! (কাবিননামাসহ)

  • ২৮-মে-২০১৯ ০৫:১৭ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস

বি এম লিপি আক্তার, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আলোচিত এক নাম। ছাত্রলীগের তিনটি পরিচয় তিনি ধারণ করে রাজনীতি করছেন এখনো। একাধারে তিনি ঐতিহ্যবাহী রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুতে কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপ সাংস্কতিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। একাই তিনটি পদ পাওয়ার পরও তিনি বর্তমান ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানীর কমিটিতে যোগ্যতার মূল্যয়ণ হয়নি বলে আন্দোলনে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এসে সরাসরি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ‌'মাদক ব্যবসায়ী' বলে দাবি করেছেন। 

ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে সামনে এনে বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত করতে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা বি এম লিপি আক্তারের ব্যাক্তিগত জীবনও খুব মসৃণ নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে ভোরের পাতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক যেখানে বিদ্রোহীদের বিষয়ে আমলনামা চেয়েছেন, সেখানে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক তার প্রতি এবং ছাত্রলীগের শুভাকাঙ্খী হিসাবে নিজেই কয়েকজনের আমলনামা সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে বি. এম লিপি আক্তারকে নিয়ে এ প্রতিবেদন। 

বি এম লিপি আক্তার বারবার বর্তমান কমিটিতে তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করা হয়নি অভিযোগ তুলে অন্যকারো প্ররোচণায় আন্দোলনকে বেগবান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিসহ পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করে বলেছেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে আরো কয়েকজন বিবাহিত কথিত সুন্দরী রয়েছেন। যারা নানা অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নেতাদের কাছ থেকে এ পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি এমন একজন বিতর্কিত নেত্রী সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন যার বিরুদ্ধে ৪ টি বিয়ের কথিত অভিযোগ রয়েছে এবং যার বয়স ৩০ এর বেশি। সেই ইডেন কলেজ সুন্দরীকে যদি পদ দেয়া হয়, তাহলে কেন অন্য যোগ্যদের পদ দেয়া হবে না- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। 

এদিকে, বিএম লিপি আক্তারের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগেই বি এম লিপি আক্তার নিজেই বিয়ে করেছিলেন। বয়স লুকিয়ে ফেণীর দাগনভূইয়া এলাকার মোহাম্মদ গোলাম মোরশেদকে বিয়ে করেছিলেন। তখন বি এম লিপি আক্তারের বয়স ১৮ এর নিচে থাকার পরও কাবিননামায় ১৯ বছর দেখানো হয়। এমনকি তাকে কুমারী (ভার্জিন) হিসাবে কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়। তাদের বিয়ে হয়েছিল শরিয়তপুরের জাজিরার একটি কাজী অফিসে। কাবিননাতে বিয়ের দিন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ মে ২০০৮ ইং। 

এলাকাবাসী সূত্র এবং বি এম লিপির ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীও এই বিয়ের কথা ভোরের পাতার এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। এমনকি ওই বিয়ে ছাড়াও আরো এক ছেলের সঙ্গে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে বি এম লিপির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই বান্ধবী আক্ষেপ করে বলেন, জীবনে বহু ছেলের সঙ্গেই লিপির সম্পর্ক ছিল, এটা নিয়ে লিপির অহংকারেও শেষ নেই। তাই তার কাছ থেকে দূরেই থাকি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে  বিএম লিপি আক্তারকে মঙ্গলবার বিকাল ৫ টা ৪ মিনিটের সময় এ প্রতিবেদক ফোন করলে তিনি বলেন, আমার কোনো বিয়েই হয়নি। যে কাবিননামার কথা বলা হচ্ছে সেটিও ভুয়া। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি। 

তবে এ প্রতিবেদক, শরিয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার কাজী অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কাজীর মাধ্যমে বিবাহের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

Ads
Ads