যানজটে নাকাল ঢাকা: দূরীকরণে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে

  • ২৫-মে-২০১৯ ১১:০১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেখতে দেখতে আজ ২০ রোজা চলে যাচ্ছে।  মানুষের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের তাড়নায় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যেই বাড়ি রওনা দিয়েছেন। এর সব মিলিয়ে এখন সড়কপথের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। শুরু হয়ে গেছে তীব্র যানজট। এমনই যানজট যে, মানুষের জান যায় যায়। সড়কে তীব্র যানজটে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে এখন লেগে প্রায় ৪ ঘণ্টা এমন। এই অবস্থা অবশ্য ফি বছর রোজার মাস এলেই হয়। এই সময়টায় একটু বাড়তি যানজট লাগে। আর তারই দুর্ভোগ জনগণের ওপর দিয়ে যায়। এই সময়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে একটু বেশিই যানজট লাগে। শুধু রোজার মাসেই বা কেন। এই সড়কে ফি বছরই একটু বেশি যানজট লেগে থাকে।

তাই তো যানজটের শহর হিসেবে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা শহর। শুধু তাই নয়, সময় অপচয় ও ট্রাফিক অদক্ষতা সূচকেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নামবিওর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯তে এ তথ্য ওঠে এসেছে। সম্প্রতি নামবিওর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৭ সালে যানজটে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ২০১৬ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে ছিল অষ্টম। এর মধ্যে সময়, সময় অপচয় ও অদক্ষতা সূচকে ঢাকার অবস্থান রয়েছে শীর্ষে। এখন যতোই দিন যাবে ততোই সড়কের অবস্থা সঙ্গীন হয়ে পড়বে যানজটের কারণে। নাকাল এই নগরীকে ঘিরে আর এদিকে ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টির উপদ্রব তো থাকছেই।

আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, এবারের ঈদের সড়ক শান্তির না হোক অন্তত যেন স্বস্তির হয়। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশকে পূর্ণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যতোদিন পর্যন্ত সড়ক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হচ্ছে, ততোদিন যে এই যানজটের দুর্ভোগতো আমাদের পিছু ছাড়ছেই না সেতো আমাদের জানাই আছে। তারপরও সাধ্যের মধ্যে থেকেই আশা করি বর্তমান যানজটের দুর্দশা দূরীকরণে আমাদের আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এই ঢাকা নগরীকে স্বস্তিতে রাখতে সহায়তা করবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান সরকারের আমলে অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে সড়ক ব্যবস্থা অনেক ভালো। তারপর কেন এতো যানজট থাকবে এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বটে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে পাতাল রেলপথ। ততোদিনে আশা করা যায়, রাজধানীর চিত্রপট অনেকটা বদলে যাবে। ততোদিন না হয় আমরা ধৈর্য্য ধরে থাকি।

Ads
Ads