নির্বিঘ্নে হোক ঈদ যাত্রা: প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

  • ২২-মে-২০১৯ ১০:০৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

প্রতিবছরই ঈদ আসে সঙ্গে প্রতি বছরই এই প্রশ্নটি সামনে চলে আসে, নিরাপদে বাড়ি যেতে পারবে তো যাত্রীরা? বলার অপেক্ষা রাখে না, হররোজ যেভাবে দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসে, তাতে করে পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, পরিবহনে চড়া মানেই মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে থাকা। সম্প্রতি যখন ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, নছিমন-করিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারি ও প্যাডেলচালিত রিকশার পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি- এহেন প্রেক্ষিতে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রাখে। এ ছাড়া এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদ যাত্রায় নিরাপত্তার ২০ দফা প্রস্তাবও অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। আর এসব প্রস্তাবের মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, নছিমন-করিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারি ও প্যাডেলচালিত রিকশার পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করার বিষয়টি ছাড়াও পোশাকশিল্প ও অন্যান্য শিল্প-কারখানায় রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

আমরা জানি যে, প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় বহু লোকের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে থাকে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সড়ককে নিরাপদ করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ছাড়া নানা ধরনের প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে- এগুলো রোধ করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মহাসড়ক অবৈধ দখল ও পার্কিংমুক্ত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করার দাবিও করেছে সংগঠনটি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্পিডগান ব্যবহার ও উল্টো পথের গাড়ি চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি অযান্ত্রিক যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে। আর ঈদের আগে ও পরে সড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক ঈদ যাত্রায় নিষিদ্ধ করা এবং বিরতিহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আছে। এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুটপাত, জেব্রাক্রসিং, পথচারী- সেতু, আন্ডারপাস, ওভারপাস দখলমুক্ত করে যাত্রীসাধারণের যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা এবং ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, নগরীর প্রবেশমুক্ত ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোয় দ্রুত গাড়ি পাসিংয়ের ব্যবস্থা করার সুপারিশও করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আমরা মনে করি, এই সুপারিশগুলো আমলে নেওয়া যেতে পারে। যাত্রা বিরতিকালে খাবার হোটেলে যাত্রীসাধারণ যাতে মানসম্পন্ন সাশ্রয়ী মূল্যে সেহ্রি ও ইফতারি গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত উদ্ধার, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা উচিত। এছাড়া প্রত্যেকটি বিষয় সংশ্লিষ্টদের বিচার বিবেচনা করা জরুরি। ঈদ যাত্রায় যাত্রীর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। 

Ads
Ads