যেভাবে ডিপিডিসি’র কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে পরিচালক হারুন-অর-রশীদের সিন্ডিকেট

  • ১৬-মে-২০১৯ ০২:৩৮ অপরাহ্ন
Ads

:: উৎপল দাস ::

স্পট কোটেশনের নামে নিজস্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অযাচিতভাবে কাজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বিরুদ্ধে। সংস্থাটির কারিগরি ইউনিট থেকে মোট ৩৬টি বিভাগের জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন না থাকলেও ডিপিডিসির বিভাগগুলো থেকে এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় পরিচালক কারিগরির দফতরে। পদাধিকার বলে পরিচালক কারিগরি সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকার কাজের স্পট কোটেশনের ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। আর এই ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে প্রয়োজনের বাইরেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন কাজ দেয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তা আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিপিডিসির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাঁচ থেকে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ‘চক্র’ এসব কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী এটিএম হারুন-অর-রশীদের দুরসম্পর্কের শ্যালক পলাশ। পলাশের নিজের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স না থাকলেও ডিপিডিসির স্পট কোটেশনের কাজ তিনি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে করে যাচ্ছেন। ডিপিডিসির বিভাগগুলোর বেশ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। চক্রটির দৌরাত্বের কারণে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজ পাচ্ছে না।

পলাশের নেতৃত্বে রহমান এন্টারপ্রাইজ, হায়দার আলী এ্যান্ড কোং, ছানাকোস্ট, আর এস এন্টারপ্রাইজ, ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজ ও রাজ ইঞ্জিনিয়ারিং নামের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে ফিরে ৩৬টি ডিভিশনের যাবতীয় স্পট কোটেশনের কাজ দেয়া হচ্ছে। আর এসব কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে জুয়েল, এহসান নামে আরও দুজন ব্যক্তি যাদের নিজেদের নামে কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিডিসির বেশ কয়েকটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা জানান, সরাসরি প্রধান কার্যালয় থেকে চাহিদাপত্র দেয়ার জন্য তাদের জোর করা হয়। প্রয়োজন না থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের নামে এসব চাহিদাপত্র ডিপিডিসির পরিচালক অপারেশনের দফতরে পাঠাতে বলা হয়। আর যাবতীয় কাজ পলাশের নেতৃত্বে হয়ে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পরিচালক অপারেশন স্যারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পলাশ আমাদের কাছে কাজের তালিকা দেন। সেগুলো আমরা সরাসরি প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিই। সেখান থেকে স্পট কোটেশনের অনুমোদন নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। এতে প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন সারঞ্জামাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া যে ধরণের উন্নয়নের কাজ তাদের দেয়া হচ্ছে সেগুলোর গুণগতমানও ভালো হচ্ছে না। যে কারনে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাহক আমাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে  ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী এটিএম হারুন-অর-রশীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া অফিসে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরই প্রথমে মাসুদ পরে মনির নাম দাবি করে একজন বলেন, স্যার অফিসে নেই। আপনার কিছু জানার থাকলে রোববার অফিসে আসেন। তিনি আরো বলেন, আমি স্যারের ( ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী এটিএম হারুন-অর-রশীদ) সঙ্গে আপনাকে বসিয়ে দিবো। প্লিজ পলাশ ভাই এবং স্যারকে নিয়ে উল্টোপাল্টা নিউজ করবেন না। প্রতিউত্তরে এ প্রতিবেদক বলেন, নিউজ করা না করার বিষয়টি আপনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছু নেই। আপনার সঙ্গে ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী এটিএম হারুন-অর-রশীদের সম্পর্ক কি বা আপনি তার অফিসের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা তা জানতে চাইলে একবার নাম মাসুদ আরেকবার মনির বলে দাবি করেন। কিন্তু পদমর্যাদা বলতে রাজি হননি। এরপর ফোন কেটে দেন। 

একই বিষয়ে  ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী এটিএম হারুন-অর-রশীদের আত্নীয় পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

Ads
Ads