কলংকমুক্ত হোক প্রাণের ছাত্রলীগ

  • ১৫-মে-২০১৯ ১০:১৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  মানেই একটি আবেগ, অনুভূতির নাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং  দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনে  থেকে  নেতৃত্ব দিয়েছে। রক্ত দিয়েছে লাখো ছাত্রলীগ কর্মী। তবুও আদর্শিকভাবে যারা ছাত্রলীগ করেছে তারা কখনো কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। এক কথায় বলতেই পারি, বাংলাদেশের ইতিহাস মানে ছাত্রলীগের ইতিহাস। 

সেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যেটিকে নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করতে পারি।  গৌরবময় অতীতের অংশিদারিত্ব নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে পুরোনো গৌরব আর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। 

গত সোমবার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর এই প্রথম বিদ্রোহীদের রক্তাক্ত হতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন সেটির সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুধু আমি নই, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন তারাই মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছেন। এরপর নিজে উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি প্রিয় অনুজপ্রতীম রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে বিতর্কিতদের কেন ঠাঁই দেওয়া হয়েছে কমিটিতে তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এবং সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। 

বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিত, চাকরিজীবী, অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যা মামলার আসামিরা ঠাঁই পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী খেপেছেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সবারই আমলনামা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই  নেতার হাতে তুলে দিয়েছেন। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বাদ দিয়ে ত্যাগী এবং আদর্শিকভাবে ছাত্রলীগের জন্য নিবেদিতপ্রাণ  নেতাকর্মীদের ঠাঁই দেওয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করে নিজেদের কলংকমুক্ত করবেন শোভন-রাব্বানী; এমনটাই প্রত্যাশা করি।

কেননা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দেই এবারের কমিটির শীর্ষ দুই নেতা পদ  পেয়েছেন। এখন তারা যদি নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে ব্যক্তিস্বার্থে কমিটিতে বিতর্কিতদের পদ দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। গত সোহাগ-জাকিরের কমিটিতে অনুপ্রবেশের কারণে নেত্রী সিন্ডিকেটের বাইরে এসে নিজে উদ্যোগী হয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু এবার যে বিতর্কিত কমিটি হয়েছে সেটি স্বীকার করেছেন সবাই। তাহলে কি সিন্ডিকেট অথবা ব্যক্তিস্বার্থেই বিতর্কিতদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল। এ প্রশ্নের সমাধানও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসাবে তিনি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কলংকমুক্ত কমিটি গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়ন করবেন শোভন-রাব্বানী- এই প্রত্যাশা করতেই পারি। কারণ শোভন-রাব্বানীকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে যে, নেত্রী যে রকম কমিটি চান, সেই রকম কমিটিই তারা উপহার দিবেন। 

যারা বিদ্রোহ করেছেন পদ না পেয়ে তাদের প্রতিও অনুরোধ থাকবে, নিজেদের মধ্যে কাদা  ছোড়াছুড়ি না করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নেত্রীর কথা মেনে নিন। অবশ্যই  যোগ্যদের মূল্যায়ণ করবেন শোভন-রাব্বানী। কারণ এটা না করতে পারলে আবারও গত কমিটির মতো ব্যর্থ হবে শোভন-রাব্বানীর কমিটি। আমরা এটা কখনোই চাই না। আমরা চাই বিতর্কহীন এবং কলংকমুক্ত ছাত্রলীগ। যে ছাত্রলীগকে নিয়ে আমরা আবারও গর্ববোধ করতে পারব। কলংকমুক্ত ছাত্রলীগ দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

Ads
Ads