নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিতর্কিতদের বহিষ্কার করে যোগ্যদের পদ দিবেন শোভন-রাব্বানী!

  • ১৫-মে-২০১৯ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলনের দীর্ঘ এক বছর পর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেছেন সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। গত সোমবার দীর্ঘদিন বৈঠকের পর ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যেই আল মামুন নামের একজন উপ সম্পাদক তাকে যোগ্যতর পদে মূল্যায়ণ করা হয়নি এই অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন। এমনকি গতকাল সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে হামলা করে পদপ্রাপ্ত ও তাদের অনুসারীরা। 

হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন এবং রোকেয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার চোখের কর্ণিয়ার ওপর মারাত্নকভাবে আঘাত করে হামলাকারীরা। চিকিৎসাধীন দিশার চোখের পাশে ১৮ টি সেঁলাই লেগেছে। এদিকে, ছাত্রলীগের বিক্ষুদ্ধ অংশটি মঙ্গলবারও সংবাদ সম্মেলন করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। 

এদিকে, হামলার পর হাসপাতালে গিয়েও তোপের মুখে পড়েন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গত ৩০ ঘন্টার বেশি সময় ধরে গণমাধ্যমকে কৌশলে এড়িয়ে চলা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী এবং গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথা হয় ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের সাথে। 

সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী দীর্ঘ টেলিফোনালাপে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে কয়েকজন পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে বিয়ে করা, বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী হিসাবে পরিচিত, বয়স ৩০ এর বেশি, অছাত্রদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে শোভন-রাব্বানী অভিন্ন সুরে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তা লিখিত আকারে আমাদের কাছে দিলে তদন্ত স্বাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথেই বিতর্কিতদের বহিষ্কার করে যোগ্য কাউকে পদায়ন করা হবে। 

এদিকে, ছাত্রলীগের বিক্ষুদ্ধ অংশ জানিয়েছে, শোভন-রাব্বানী এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এমন বহিষ্কার ও যোগ্যদের পদায়নের কথা বলছে। কেন গত এক বছরে তারা কি এমন খোঁজ খবর নিয়েছেন, যাদের নেতা বানিয়েছেন তাদের বিষয়ে।  এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। 

অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভোরের পাতাকে বলেন, মধুর ক্যান্টিনের হামলার বিষয়ে ইতিমধ্যে ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান জয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। 

ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদবঞ্চিত এক নারী নেত্রী জারিন দিয়ার একটি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়েছিল, শীর্ষ দুই নেতাই নারীদের প্রতি বিভিন্নভাবে আসক্ত। বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি শোভন বলেন, অভিযোগ অনেকেই করতে পারেন। অনেকে তো আমার বিয়ের ছবিও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভূয়া। পদ না পেয়ে হতাশা থেকে এমন কিছু লিখলে আমাদের কি করার আছে?

একই প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, আমাকে নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। কেউ কেউ তো টাকা নিয়ে পদ দিইনি, এমন অভিযোগও করছেন। কিন্তু যে ব্যক্তিকে আমি চিনিই না বা তার সাথে কোনোদিন কথাও হয়নি, তিনি কিভাবে এসব অভিযোগ করেন, সেটা আপনারাই ভেবে দেখুন। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন তবে আপা (শেখ হাসিনা) আমাকে যে শাস্তি দিবেন তা মাথা পেতে মেনে নিবো। 

Ads
Ads