শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

  • ১৪-মে-২০১৯ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাওয়াল বীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি এর ১৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের সুযোগ্য উত্তরসুরী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল। 

মঙ্গলবার ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত যুব ভবনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন,আর্দশের কখনো মৃত্যু হয় না। আমার পিতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু রয়েছে তার কর্ম, তার জীবনাদর্শ। তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ নিরহংকার একজন নীতিবান মানুষ। তিনি সারাজীবনই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। আর তাই তাকে অকালে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিল। তবে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৬৬- র ছয়দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০- র নির্বাচন, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ সব আন্দোলন সংগ্রামে আহসানউল্লাহ মাস্টার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের দেরাদুনে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মুজিব বাহিনীতে যোগদান করেন এবং পাক আর্মির বিরুদ্ধে একাধিক সফল অপারেশন পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ দেশ স্বাধীনের পর তাকে ভালো চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেন নি। তিনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশা বেছে নিয়েছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্থান ও কালোত্তীর্ণ একজন মানুষ। ভাবতে অবাক লাগে, তিনি ছিলেন একাধারে বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আর্দশ শিক্ষক। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশের একজন অকুতোভয়ী সৈনিক। তিনি কখনোই অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির কাছে মাথা নত করেন নি।

উক্ত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন ও আর্দশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বপ্ন ও আর্দশের ধারক ও বাহক ছিলেন শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার। বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি কখনো ভাবতেই পারেন নাই তাকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তাকে নির্মম ভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। তাই তার রেখে যাওয়া আর্দশ ও কর্মকে বুকে ধারন করে দেশ সেবায় আমাদের কে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, গভীর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর সামাজিক মূর্ল্যবোধ এ তিনটি বিরল গুনের অভূতপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল সবার প্রিয় আহসানউল্লাহ মাস্টার স্যারের চরিত্রে।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোজ্জামেল হক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আ ন আহম্মদ আলী।

Ads
Ads