সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড এর কর্মসূচি নিয়ে কিছু অনুভূতি প্রকাশ

  • ২৯-Apr-২০১৯ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
Ads

:: এড. এখলেছার বাচ্চু ::

ইং ২৮.০৪.১৯ তারিখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস'১৯ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান তথা সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ বাহাদুর জনাব শেখ মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়।  

সকাল আটটায় বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা, রক্তদান, বিকালে আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত্র দশটা পর্যন্ত যশোরের " শিকড়" সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রধান সমন্বায়ক রাশু আপার চমৎকার সঞ্চালনায় একটি মনজ্ঞো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক সহ বিচার,প্রশাসন ও পুলিশের স্ব স্ব দপ্তরের  বিচারক বৃন্দ, কর্মকর্তা, কর্মচারী বৃন্দ সহ সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে সকালের বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় বিনামুল্যে আইনগত সহায়তার শ্লোগানটি সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক সাড়া জাগায়।  এ জন্য একজন আইনজীবী হিসাবে জেলা ও দায়রা জজ বাহাদুরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। 

বিচারের বাণী যেনো নিভৃতে না কাঁদে, তা যেনো প্রকাশ্য রুপ পায় এরং দরিদ্র অসহায় মানুষ যেনো সরকারি খরচে প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের আইনগত অধিকার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে এ লক্ষ্য নিয়েই মাননীয় জেলা দায়রা জজ সাহেব দিবসের প্রথমার্ধে পদযাত্রা শুরু করেন এবং নিজে রক্তদানের মাধ্যমে ত্যাগের মানুষিকতাকে উৎসাহিত করেন। 

বিকাল চারটায় আলোচনা সভার সভাপতি হিসাবে জজ বাহাদুর বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকলে কোন জাতীকে বা দেশকে উন্নত বলা যায়না। উক্ত আলোচনা সভায়  আইনগত সহায়তার আলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   দরিদ্র এবং দরিদ্র সীমার নিচে বসবাকারী অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর এই স্পর্শকাতর অঙ্গীকার একজন আইনজীবী হিসাবে আমি সাধুবাদ জানাই। আলোচনা সভার অতিথি জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে আইনগত সহায়তা পাইয়ে দিতে এর কার্যক্রমের বিস্তৃতি বিষয়ে কিছু মুল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন। উপস্হিত অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র, জেলা পরিষদের প্রশাসক,সিভিল সার্জন, জিপি, পিপি এবং সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাঃ সম্পাদক দিবসের প্রতিপাদ্য তুলে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে তৃণমুলে জানান দিতে স্ব স্ব মুল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সিঃ সহকারী জজ সালমা আক্তার এবং সিঃ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার। এই দু'জনের উপস্হাপণায় একটা শৈল্পিক মাত্রা ছিল। যা আলোচনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে। শেষ পর্ব তথা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সঞ্চালক জুটির কন্ঠ ঝরা আবৃত্তির সুধারস তৃষ্ণার্ত দর্শকরা বেশ তৃপ্তির সাথে পান করেন। 

দিবসের শেষ পর্বে ছিল সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির রুপ-রসে বেড়ে ওঠা যশোরের " শিকড়" সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মনোজ্ঞ পাঁচ মেশালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। " শিকড়" এর পুরোধা রাশু আপার নান্দনিক উপস্হাপণশৈলি ছিল একটি পৃথক শিল্প স্বত্বায় মোড়া। এক দঙ্গল শিল্পীর গান,নৃত্য,বায়োস্কোপ নামীয় কৌতুক এবং নাটকের মধ্য দিয়ে দেশিয় সংস্কৃতির অতিত এবং বর্তমানের একটি ভয়াবহ পার্থক্য চিত্র তুলে ধরা হয়। যা নিতান্তই পথ ভোলা সব পথিকদের মৃতপ্রায় বোধকে জাগ্রত করার জন্য। বর্তমান সমাজে আকাশ সংস্কৃতির তীব্র তাপদাহে সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি যেন বিলুপ্ত হতে চলেছে। যার ফলে মুল্যবোধের অবক্ষয় সহ মাদকের ব্যবহার, খুন,ধর্ষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।  আর এই অবস্হায় আমরা যারা দেশিয় সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই, তারা আজ তাপের দহনে যেনো মৃত প্রায়। রবীন্দ্র নাথের চন্ডালীকার নৃত্যনাট্যের একটি চয়ণ মনে পড়ে গেলো। "" আমি তাপিত পিপাশিত ---- আমায় জল দাও " আমি খুব গর্বের সুরে বলবো যশোরের " শিকড়"

সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী তাদের সমগ্র অনুষ্ঠনটির মাধ্যমে যেন সাতক্ষীরার খরাতপ্ত মানুষকে একটু জল দিয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে গেল। এ জন্য "শিকড়" এর কর্ণধর রাশু আপাকে এবং তার টিমের সমস্ত সদস্যদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা এবং অফুরান ভালোবাসা।

সবশেষে জেলা ও দায়রা জজ মহোদয় দেশীয় সংস্কৃতির উপর যে বাহাদুরী প্রদর্শন করেছেন তার জন্য তাকে সেলুট জানাই।

Ads
Ads