দলের শৃঙ্খলায় প্রধানমন্ত্রী: শুদ্ধি অভিযানের কোনো বিকল্প নেই

  • ১৮-Apr-২০১৯ ১১:৩৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে কমবেশি নানা অনিয়ম-অনৈতিকতা রয়েছে এটা আজকাল আর গোপনীয় কিছু নয়। বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকলে যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই তখন বেশ পোয়াবারো। তখন তারা নিজেদের ‘মুই কী হনুরে’ এমন ভাববাতিক নিয়া সবসময়েই বুক ফুলিয়ে থাকেন। ধরাকে সরা জ্ঞান করেন তখন তারা। তখন ক্ষমতায় থাকার শতভাগ সুবিধাই শুধু নয়, অনৈতিক সুবিধাও নেতাকর্মীরা নিয়ে থাকেন এমন অভিযোগ এ দেশে নতুন নয়। বলতে কি, এটা যেন তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোতে একটা বিমারই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ স্বাধীনতা উত্তরকালে আওয়ামী লীগের কাছে এ দেশের মানুষের ভিন্নরকম প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনকালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একদল সেনা কুচক্রীর হাতে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে মানুষের সে আশায় গুড়ে বালি ছিটিয়ে দেওয়া হলো। এরপর দীর্ঘ একুশ বছর পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হলেও নানা অনভিজ্ঞতার কারণে তখন দলটি মানুষের সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

অতঃপর ওয়ান-ইলেভেন এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় এলে এবং এর আরও দুই দফায় বর্তমান পর্যন্ত দলটির ক্ষমতাসীনকালে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। তবে যেটা বদলায়নি সেটা হচ্ছে, দলীয় অনিয়ম-অনৈতিকতা। ফলে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সর্বশেষ, ফেনীর সোনাগাজীর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে তিনি নজরদারি বাড়াচ্ছেন। বিলম্বিত উদ্যোগ হলেও আমরা এটাকে দলের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করি। বলার অপেক্ষা রাখে না সব আমলেই আমরা দেখেছি দলীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তিই শুধু নয়, অনৈতিকভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ছিল। বর্তমানে ক্ষমতার লোভে এখন অনেক আদর্শহীন নেতাও আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। অনেক হাইব্রিড, কাউয়াজাতীয় রাজনীতিক ঢুকে যাচ্ছে অবলীলায় দলটিতে। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত এসব সুবিধাবাদী মানুষ থেকে যেন তারা সজাগ থাকেন। 

কেননা, এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে কোনো সরকারের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন দলের আচরণের ওপর। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলে দল যত জনপ্রিয় হবে, সরকারের জনপ্রিয়তা তত বাড়বে। আর দলের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে নেতৃত্বের ওপর। গুটিকয় নেতার জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদই জানাতে হয়।

আমরা মনে করি আর কালবিলম্ব না করে এখনই যেন দলকে অসৎ লোকদের হাত থেকে রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেজন্য ধারাবাহিকভাবে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। দলের ভাবমূর্তি যাদের কারণে নষ্ট হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে দল যেমন উপকৃত হবে তেমনি দেশও উপকৃত হবে বলে আমরা মনে করি। কেননা, দল যদি অসৎ হয় তখন দেশও অসৎ হতে বাধ্য। যেহেতু দল দ্বারাই দেশ পরিচালিত হয় সেহেতু আগে দলকেই সৎ হতে হবে, দেশকে নয়। দেশ যেমনই হোক, দল যেন শতভাগ সৎ থাকে সেটাই তার কামনায় থাকে। সেজন্যই তো সে ভোটে অংশগ্রহণ করে।  

Ads
Ads