বাংলাদেশ-ভুটান সম্প্রীতি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক

  • ১৬-Apr-২০১৯ ১০:০৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে সৃষ্টির প্রাক্কাল থেকেই বাংলাদেশ নামের সঙ্গে ভুটানের অস্তিত্ব অত্যন্ত নিবিড়। সেই দেশটিরই প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিং গত সোমবার বাংলাদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে গেছেন। পড়ালেখার সুবাদে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। এ সম্পর্ক আরও জোরদারই আলোচ্য সফরের লক্ষ্য।  তার এ সফরকালে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিকাশে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুপক্ষ পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছে সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকে।

প্রসঙ্গত, এই ভুটানই প্রথম যে দেশটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। ভুটান সার্কভুক্ত অন্যতম দেশ।

হিমালয়কন্যা এ দেশটির প্রতি বাংলাদেশের স্পর্শকাতরতাও রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে দুটো দেশেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেননা দেশদুটোর এমন অনেক কিছুই আছে, যার বিনিয়োগ ঘটলে উভয় দেশই উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে জলবিদ্যুৎ ও পানিসম্পদ তো আছেই; সেসঙ্গে ট্যুরিজম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, আইসিটি, কৃষি ইত্যাদি বিষয়েও দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় হতে পারে। 

রফতানির দিক থেকে বাংলাদেশ ভুটানের দ্বিতীয় বৃহত্তম আস্থার কেন্দ্র। দৃশ্যত বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যার সঙ্গে ভুটানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ভুটান যা রফতানি করে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে তার চেয়ে কম। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমন অনেক পণ্যই রয়েছে, যা বড় আকারে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে দুদেশের অর্থনীতি উন্নত করা যেতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ভুটানের আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল, ফলের জুস ও বাদাম, গার্মেন্ট, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং মেলামাইনের থালাবাসন। দুদেশের মধ্যে উন্নয়নের মতো খাত এখনো রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমসের আধুনিকায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির দিকে সবিশেষ মনোযোগ দিলে দুটো দেশই আরও উপকৃত হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভুটানের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে এটা ভারতের পূর্ণ সহযোগিতা ভিন্ন সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশ আর ভুটানের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগব্যবস্থা নেই। তিন দেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার তাদের ক্রস বর্ডার ট্রেড অব ইলেকট্রিসিটি (সিবিটিই) নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে, যে কারণে বাংলাদেশ এখন ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে ভুটানের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে। পাহাড়ি এ ক্ষুদ্র দেশটিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের যৌথ বিনিয়োগে ভুটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আশা করছে বাংলাদেশ। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ সবচেয়ে কম। ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হলে তাতে প্রতিবেশী দেশটি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। কাজেই, আমরা আশা করব- ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শুধু নতুন উচ্চতায় নেবে না, এর সূত্র ধরে ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারেও অবদান রাখবে।

Ads
Ads