যে শর্তে সংসদে যোগ দিবে বিএনপির এমপিরা

  • ৭-জানুয়ারী-২০১৯

সিনিয়র প্রতিবেদক
বাইরে বিএনপি বলেছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের কোন সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সংসদে যাবার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করছে বিএনপি। আর এক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান দাবি হলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘বেগম জিয়াকে অন্তত জামিনে মুক্তি দিলে আমরা সংসদে যাবার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি’। 

একাধিক সুত্র বলেছে,’ শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদান নিয়ে একটি দুতাবাসের মধ্যস্থতায় সরকার এবং বিএনপি সমঝোতার চেষ্টা করেছে’। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের পরপরই বেগম জিয়ার মামলাগুলো সচল হওয়ার তারা উদ্বিগ্ন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন ‘বেগম জিয়ার সাথে কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাঁর চিকিৎসাও বন্ধ। এর মধ্যে তাঁর পুরনো মামলাগুলোকে আবার সচল করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট সরকার বেগম জিয়াকে নিঃশেষ করে ফেলতে চায়।‘ 

বিএনপির নেতারা স্বীকার করেছেন যে, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করার শক্তি তাদের নেই। দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী জেলে। যারা বাইরে আছেন তারাও আতংকে আছেন। নির্বাচনের ফলাফলের পর দলে হতাশা বেড়েছে। তাই এখন আন্দোলন অসম্ভব। তাই বিএনপি চাইছে, কিছু একটা অর্জন নিয়ে সংসদে যেতে। 


এক্ষেত্রে তারা ৪টা দাবি উপস্থাপন করেছে একটি দুতাবাসের কাছে। এই দাবিগুলোর মধ্যে প্রথম দাবীই হলো বেগম জিয়ার মুক্তি। দ্বিতীয় দাবি হলো, নির্বাচনের সময় আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি। তৃতীয় দাবিতে আছে, নির্বাচনকালীন সময়ে যে মামলাগুলো হয়েছে সেই মামলা প্রত্যাহার। আর চতুর্থ দাবিতে বিএনপি বলেছে তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার অধিকার প্রদান। একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে গত শুক্রবার তারা এই দাবিগুলো হস্তান্তর করেছে। 

এরপর ঐ দুতাবাসের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীরও উপদেষ্টা। জানা গেছে অন্তত: বেগম জিয়ার মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য ঐ দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঐ উপদেষ্টা বলেছেন, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টা রাজনৈতিক নয়, আইনগত। আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে সরকারের তেমন কিছু করার নেই। অন্যান্য দাবিদাওয়াগুলোর ব্যাপারে সরকার দেখবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

কিন্তু বিএনপি চাইছে প্রথমে খালেদার মুক্তি বা জামিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি এখন ‘মানবিক কারণে’ তার মুক্তি চাইছে। কারণ বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তারা মনে করছেন দ্রুত বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করা না গেলে, বাকী মামলাগুলোর একের পর এক রায় দেয়া হবে এবং বেগম জিয়া তার জীবদ্দশাতে কারাগার থেকে বেরুতে পারবে না। 

বিএনপি মনে করছে বেগম জিয়া কারাগার থেকে বেরুলে দলে নতুন উদ্দীপনা আসবে, কর্মীরা হতাশা ঝেড়ে ফেলতে পারবে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন,‘ খালেদার মুক্তি বিএনপির অস্তীত্ব রক্ষার শেষ অস্ত্র। তাই আমরা যেকোন শর্তে এটা আদায় করতে চাই।’ কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, বেগম জিয়ার ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয়নি।