মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ

  • ১১-জানুয়ারী-২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগের রাতে দেশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। শনিবার মধ্যরাতে বিটিআরসির নির্দেশে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সবগুলো মোবাইল অপারেটর।
এর আগে, ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রথমবার দেশের সব মোবাইল ফোনে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকাল ৩টা থেকে দ্বিতীয় দফায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হলেও টুজি ইন্টারনেট চালু ছিল। পরে মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরগুলোকে টু জি ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়। ভোটের দিন শেষে মধ্যরাত (৩১ ডিসেম্বর প্রথম প্রহর-০০.০১ আওয়ার) পর্যন্ত এই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে বলেছে তারা।

এর ফলে শনিবার রাত ১১টার পর থেকে মোবাইল গ্রাহকরা সম্পূর্ণরূপে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।

এর আগে শনিবার বিকাল ৩টার পর থেকে ফোর জির ভয়েস ও ডেটা এবং থ্রি জির ডেটা সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলে বিটিআরসি।

একটি মোবাইল অপারেটরের একজন কর্মকর্তা জানান, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন এবং রাত ১১টার পর থেকে টু জি ইন্টারনেটও বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধের কারণ ব্যাখ্যায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ও গুজব প্রতিরোধে’ সরকারের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সারা দেশে ২৯৯ আসনে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন পেরিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট পাওয়া যাবে না।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেটে ফোর জি ও থ্রি জি সেবা বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় খোলার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত তা চলছিল।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে গত নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৮ লাখের বেশি; এর মধ্যে ৮ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।

মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখনও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, আমরা (আইএসপিএবি) ইন্টারনেটের বিষয়ে কোনও ধরনের নির্দেশনা এখনও পাইনি। সেহেতু ধরে নিতে পারি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদেরটা (ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট) বন্ধ না হওয়াই উচিত। বন্ধ হলে ব্যবসায়িক এবং অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা খোলা রাখলে সরকারের কোনও ক্ষতি হবে না বলে আমরা মনে করি।

প্রসঙ্গত, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে ‘অপপ্রচার’ ঠেকাতে গত ১৩ ডিসেম্বর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ইন্টারনেটের গতি কমানোর প্রস্তাবনা দেয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এতে সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সব রিটার্নিং অফিসার, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।