সীমানা পেরিয়ে

সীমান্তে বাংকার স্থাপন, যুদ্ধের উস্কানি মিয়ানমারের

:: তরিক শিবলী ::

আন্তর্জাতিক রীতি লঙ্ঘন করে বংলাদেশের সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে তারা বাংকার স্থাপন করে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে দেশের বর্ডার বাহিনী। বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশেষ করে জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গা অবস্থান রয়েছে এ ধরনের তিনটি স্থানে দিনরাত পালা করে বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে দেশের বর্ডার বাহিনী। সেনাবাহিনী মোতায়েন আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন। এ অবস্থায় সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার তমব্রু সীমান্ত ঘেঁষে গত তিনদিন ধরে অবস্থান করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি দল। সকাল-দুপুর এবং সন্ধ্যায় দিনের তিনভাগে তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন হচ্ছে। তিনটি ট্রাকে করে ওই পয়েন্টে বর্ডার গার্ড পুলিশের পাশাপাশি আসা-যাওয়া করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বর্ডার গার্ড পুলিশ সদস্যরা তারকাঁটা স্থাপন করলেও সেনাসদস্যরা দূরে অবস্থান নিয়ে থাকছে। শুধু তমব্রু সীমান্ত নয়। বাংলাদেশের চাকমা পাড়া এবং বাইশারী সীমান্ত এলাকায়ও অবস্থান রয়েছ মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

তবে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিতে তারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘনজঙ্গলে অবস্থান নিয়ে থাকে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তমব্রু-চাকমা পাড়া এবং বাইশারী এলাকার জিরো পয়েন্ট বা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান রয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের উস্কানিমূলক কাজে বাংলাদেশ জবাব দেবে না বলে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান সীমান্ত পরিদর্শনে আসা পুলিশের এ অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্ব জনমতসহ কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান চাই। সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন বলে মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

মেজর (অব.) এমদাদুল বলেন, সীমান্তে নো ম্যান্স ল্যান্ডে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা আন্তর্জাতিক রীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এ অবস্থায় সীমান্তে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

লে কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, আমরা একে হুমকি মনে করছি না। অন্যদিকে আমাদের আর যা যা করা প্রয়োজন তা করছি। এর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন ওড়ানো, স্থলমাইন স্থাপন এবং কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মধ্য দিয়ে এাকাধিকবার সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে। প্রতিটি ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি এবং বাংলাদেশ সরকার।

এতদিন পর্যন্ত উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালেও মঙ্গলবার থেকে সীমান্তে স্থায়ী অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে তারা বাংকার খনন করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানকে সৈন্য সমাবেশ বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিপীড়নে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে চলে আসবে। ফলে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই থাকা ৯ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে সেখানকার অবশিষ্ট ৩ লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১২ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

মিয়ানমার সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ঘোষণা দিলেও রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা বলছেন, পশ্চিম রাখাইনে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ফের তাণ্ডব শুরু করেছে। তাদের তাড়িয়ে দিতে দ্বিগুণ জোরদার হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান।

 

ভোরের পাতা/ই

আপনার মন্তব্য লিখুন

সীমানা পেরিয়ে | আরো খবর