ক্যাম্পাস

জবি ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা

:: ফারহানা রাহি, জবি প্রতিনিধি ::

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথেই সুপার ফাইভ (কেন্দ্র, ঢাবি, জবি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ) ইউনিটের কমিটি শিগগিরই দেওয়া হবে। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খাালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সুত্র জানিয়েছে। এমন খবরে জবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। কাঙ্খিত পদ-প্রত্যাশীরা জোর লবিং তদবীর শুরু করেছেন তারা।

ছাত্রদল সূত্রে জারা যায়, ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম রফিককে সভাপতি এবং আসিফুর রহমান বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পুর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ৮ মাস আগে রফিক-বিপ্লবের কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যেই নতুন কমিটির গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিএনপির নীতি নির্ধারকরাও কমিটি দেওয়ার বিষয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করেছেন। নেতা-কর্মীরাও নতুন কমিটির গুঞ্জনে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।

নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিএনপি নেতাদের কাছে লবিং চালাচ্ছেন জবি ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। নতুন কমিটি হওয়ার গুঞ্জনে দীর্ঘদিন ধরে পদবঞ্চিত নেতারাও নড়েচড়ে বসেছেন। তারা বিএনপি-পন্থী শিক্ষক নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক কাওছার, আসাদুজ্জামান আসলাম, শামীম আহমেদ, এবি.এম. মাহমুদ সরদার, সাখাওয়াত হোসেন, মিজানুর রহমান শরীফ, আব্দুল মান্নান, জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান।

তবে এদের মধ্যে ওমর ফারুক কাওছার নিজ দলের কর্মী কাজল দেবনাথ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় দাখিল ও আলিম অধ্যায়নকালীন সময় তিনি শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের বাবা মাওলানা আবুল কালাম শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির। তিনি ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান বিবাহিত। ছাত্রলীগের সঙ্গে আতাঁত করে চলা এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল তাকে একাধিকবার সতর্কও করেছে।

ফলে নের্তৃত্বের নানা হিসাব-নিকাশে এই তিনজনই বাদ পড়ছেন বলে দলীয় সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিতে লবিং-তদবীর লবিং-তদবীর নয় বরং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় এবং দলের জন্য ত্যাগ আছে এমন ছাত্র নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। মাঠের রাজনীতিতে যারা সক্রিয় ভুমিকায় বর্তমান কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসলাম, শামীম আহমেদ, মিজানুর রহমান শরীফ ও আব্দুল মান্নানের নাম উল্লেখযোগ্য। বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলনে জবি ক্যাম্পাসসহ পুরান ঢাকায় তাদের সক্রিয় ভুমিকা দেখা গেছে। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আসাদুজ্জামান আসলামের অনুসারী নয়ন বাছার গুলিবিদ্ধ হয়েছে বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ১/১১ এর সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে একমাত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বের করা তাৎক্ষণিক মিছিলে পুলিশের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, নেত্রী যখনই সিদ্ধান্ত দেবেন, তখনই নতুন কমিটির দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে। মাঠের রাজনীতিতে যাদের অবস্থান ভালো তারাই কমিটিতে আসবে। ইউনিট কমিটিতেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অছাত্র, বিবাহিত এবং যাদের নামে অন্যদলের সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে, তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

ক্যাম্পাস | আরো খবর