অর্থনীতি

বেতন ও উৎসব ভাতা শতভাগ কারখানায় দেওয়া হয়েছে

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এর অধীনে সব পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ জুন) দুপুরে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পোশাকশিল্প খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএ অফিসের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, উৎসব ভাতা শতভাগ কারখানায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মে মাসের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে শতভাগ কারখানায়। জুন মসের অগ্রিম বেতন দেওয়া হয়েছে ৯৮ শতাংশ কারখানায়। আজকে বাকি ২ শতাংশ কারখানারও দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শতভাগ কারখানায় মে মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। ৯৮ ভাগ কারখানায় জুন মাসের পুরোটাই অথবা আংশিক বেতন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৮৫ ভাগ কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো আজকের মধ্যে ছুটি দেবে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন ভাতা বিষয়ে সমস্যা হতে পারে এমন কিছু কারখানার তালিকা আমরা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পেয়েছিলাম। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে ক্লোজ মনিটরিং এর আওতায় এনে সমস্যার ধরন বুঝে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বিজিএমইএ ঢাকা অফিসের মধ্যস্থতায় প্রায় ৩১টি কারখানার সমস্যা সমাধান করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এই  মুহুর্তে আমাদের হাতে বেতন ভাতা পরিশোধ বিষয়ে সমাধান হয়নি এরকম একটি কারখানাও নেই।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন ভাতাদি পায় সে লক্ষ্যে সরকার ও আমরা মিলে অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় ঢাকাকে ১৫টি জোনে ভাগ করে ১৫টি জোনভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি। প্রতি বছরের মতো এবারো কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। এর বাইরে সরকারের গঠিত আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

ইউরোপে পণ্য পরিবহন নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজ বার্থিং এ বিলম্বের কারণে গড়ে সাত থেকে আট দিন সময় নিচ্ছে। এতে পণ্য খালাস করতে আরো আট থেকে ১০ দিনসহ মোট ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে এবং রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজ ধীরগতি ও নির্ধারিত জাহাজের অহরহ শিডিউল পরিবর্তনের ফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। যার কারণে ক্রেতারা তাদের হতাশার কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান আরও জানান, মহাসড়কের যানজটের কথা চিন্তা করে এবার এলাকাভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন তারিখে কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানা বৃহস্পতিবার; কিছু কারখানা শুক্রবার ছুটি হয়েছে। একসঙ্গে ৪০ লাখ শ্রমিকের ছুটি হলে যানজট তৈরির পাশাপাশি অনেকেই বাস, ট্রেন, লঞ্চের টিকিট পেতেন না। এতে অনেক শ্রমিক বাড়ি যেতে পারতেন না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হতে পারে- এ রকম ১১০০ কারখানা বিজিএমইএর মনিটরিংয়ের আওতায় ছিল। সংগঠনের পরিচালক, কারখানার মালিক ও শিল্প পুলিশের সমন্বয়ে পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকায় ১৫টি আঞ্চলিক কমিটি এবং ১৫টি মনিটরিং কমিটি কাজ করেছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিএমইএ অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। সার্বক্ষণিক নিবিড় তত্ত্বাবধানের ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হয়নি।

 

অনলাইন/এইচটি 

আপনার মন্তব্য লিখুন

অর্থনীতি | আরো খবর