স্লাইড হেডিং

দেশের বৃহত্তম ‘ফার্নিচার হাট’

:: আবদুল্লাহ আবু এহসান, (টাঙ্গাইল) মধুপুর ::

পছন্দসই বাহারি ডিজাইন, নাগালের মধ্যেই দাম, সড়ক ও নৌ পথের পরিবহন সুবিধার জন্য দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের ঘাটাইল ধলাপাড়া দেশের বৃহত্তম ‘ফার্নিচার হাট’। এ হাটে প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার প্রায় কোটি টাকার তৈরি করা ফার্নিচার কেনা-বেচা হয়।

ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনাবেচার জন্য। মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২৫ কি.মি. পূর্ব দিকে ভালুকা-উথরা সড়কের পশ্চিমে পার্শ্বে বংশাই নদীর পাড়ে অবস্থিত এ ধলাপাড়া হাট। এ হাট থেকে প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার ৫০০ থেকে ৮০০ বিভিন্ন প্রকারের খাট, সোফাসেট, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সুকেজ, চেয়ার-টেবিল এবং দরজা-জানালা বেচাকেনা হয়।

গত সোমবার সরেজমিনে ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটে গিয়ে-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ ফার্নিচার হাট ধলাপাড়া। ফুলবক্স, সেমিবক্স, বেগি খাট, বোম্বাই ও রাশিয়ান খাট এখানে পাওয়া যায়। ২ হাজার ৫শত টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের খাট পাওয়া যায় এই হাটে। এছাড়াও গোল ড্রেসিং টেবিল, ছয়কোনা ড্রেসিং টেবিল, তিনচাল ড্রেসিং টেবিল, দুইচাল ড্রেসিং টেবিল ও কার্নিশ ড্রেসিং টেবিল এবং লতা সোফা, হাতিশুঁড় সোফা, বল সোফা ও বক্স সোফাসেট কেনাবেচা হয় এ হাটে। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন এ হাটের ক্রেতা। এ হাটে মধুপুর, সখীপুর, বাসাইল, কালিহাতী, ভূয়াপুরের ক্রেতা-বিক্রেতারা অতি সহজেই ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবার পত্র কেনাবেচা করে থাকেন।

কালিহাতীর ব্র্যাক ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবির আজাদ এসেছেন ফর্নিচার কেনার জন্য এ হাটে। তিনি জানান, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ভাল ফার্নিচার পাওয়া যায় এখানে। রঘুনাথপুর গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন এসেছেন ঘরের খাট ও দরজা-জানালা কেনার জন্য। তিনিও বললেন, নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এ হাটের ফার্নিচার খুবই ভালো।
এ হাটের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. আবদুল আজিজ জানান, ভৌগোলিক অবস্থা এবং যাতায়াত সুবিধাজনক হওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহত্তম হাট ধলাপাড়া। মো. মোতালেব নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, এখন একটু কেনাবেচা কম। তবে পহেলা বৈশাখ থেকে ৫ মাস কেনাবেচা বেশি হয়।

হাটের ইজারাদার কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ১৬ লাখ ১ হাজার টাকা দিয়ে এ হাট ইজারা নিয়েছি। যা গত কয়েক বছরের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আরো জানান, হাটের ইজারা কমলে ক্রেতারাও ফার্নিচার প্রতি খাজনাও কম পেত। প্রতিটি খাটের জন্য ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা খাজনা দিতে হয় ক্রেতাকে। স্থানীয় অধ্যাপক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটের সুনাম দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।

 

ভোরের পাতা/ই

আপনার মন্তব্য লিখুন

স্লাইড হেডিং | আরো খবর