হালাল খাওয়া প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৩:১৭ অপরাহ্ন

:: কাজী সিকান্দার ::

আল্লাহতায়ালা  মানুষ সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠালেন তার প্রতিনিধি করে। আর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দিলেন যা অন্য কোন প্রাণীকে দেননি। তাই মানুষ শ্রেষ্ঠ প্রত্যেক জাতি থেকে। মানুষকে করার ক্ষমতা দিলেন তবে তার সীমারেখাও বাতলে দিয়েছেন।

যে সীমারেখা মেনে চলেবে সে কামিয়াব আর যে সীমান রেখার তাওয়াক্কা করবে না সে ধরা খাওয়ার আসঙ্কা আছে। মানুষের জৈবিক চাহিদার মধ্যে একটি হলো খানা খাওয়া। তবে কেমন খানা এবং কিভাবে খাবে সব আল্লাহ ও তার রাসূল সা, বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন।

হে রাসূলগণ পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। (সূরা মুমিনুন : ৫১) উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসুলগণকে বলছেন যে, পবিত্র বস্তু আহার করার জন্য ও সৎকাজ করার জন্য। এখানে ‘তাইয়্যিবাত’ শব্দের আবিধানিক অর্থ পবিত্র ও উত্তম বস্তু। ইসলামী শরীয়তে যে সব বস্তু হারাম করা হয়েছে, সেগুলো পবিত্রও নয় এবং জ্ঞানীদের দৃষ্টিতে উত্তম বা কাম্যও নয়।

তাই ‘তাইয়্যিবাত’ দ্বারা শুধু বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ দিক দিয়ে পবিত্র ও হালাল বস্তুসমূহই বোঝতে হবে। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে যে, পয়গম্বরগণকে তাঁদের সময়ে দুই বিষয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক হলাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর, দুই সৎকর্ম কর। আল্লাহ তায়ালা পয়গম্বরগণকে নিস্পাপ রেখেছিলেন, তাদেরকেই যখন একথা বলা হয়েছে তখন উম্মতের জন্য এই আদেশ আরও পালনীয়। বস্তুতঃ আসল উদ্দেশ্যও উম্মতকে এই আদেশর অনুগামী করা।

আলেমগণ বলেন এই দ’টি আদেশকে এক সঙ্গে বর্ণনা করার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সৎকর্ম সম্পাদনে হালাল খাদ্যের প্রভাব অপরিসীম। খাদ্য হালাল হলে সৎকর্মের তাওফীক আপনা-আপনি হতে থাকে। পক্ষান্তরে খাদ্য হারাম হলে সৎকর্মের ইচ্ছা করা সত্ত্বেও তাতে নানা বিপত্তি প্রতিবন্ধক হয়ে যায়।

হাদীসে আছে কেউ কেউ সুদীর্ঘ সফর করে এবং ধূলি-ধূসরিত থাকে। এরপর আল্লাহর সামনে দোয়ার জন্য হাত প্রসারিত করে ইয়া রব, ইয়া রব, বলে ডাকে কিন্তু তাদের খাধ্যও হারাম এবং পানীয়ও হারাম। পোশাকও হরাম দ্বারা তৈরী হয় এবং হারাম পথেই তাদের খাদ্য আসে। এরূপ লোকদের দোয়া কিরূপে কবুল হবে পারে। (মুসলিম, কুরতবী)

এ থেকে বোঝা গেল যে, এবাদতে ও দায়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে হালাল খাদ্যের অনেক প্রভাব আছে। খাদ্য হালাল না হলে এবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার যোগ্য হয় না। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন হে মানবমন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু সামগ্রী ভক্ষণ কর। (বাকারা : ১৬৮)

এখানে ‘হালালান তাইয়্যিবা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ‘হিল্ল’ শব্দের অর্থ হলো গিঁঠ খোলা। যেসব বস্তু-সামগ্রীকে মানুষর জন্য হালাল বা বৈধ করে দেয়া হয়েছে তাতে যেন একটা গিঁঠই খুলে দেয়া হয়েছে। হযরত সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন মুক্তি বা পরিত্রাণ লাভ তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর শীল ১. হলাল খাওয়া ২ ফরজ আদায় করা ৩ রসূল সা. সুন্নাত সমূহের আনুগত্য করা।

অন্য আয়াতে আছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর যে গুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।’ (সূরা বাকারা : ১৭২)
আলোচ্য আয়াতে যমন হারাম খাওয়া নিষ্দ্ধি করা হয়েছে, তেমনিভাবে হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে এবং তা খেয়ে শুকরিয়া আদায় করতে অনূপ্রাণিত করা হয়েছে।

করণ হারাম খেলে যেমন মন্দ অভ্যাস ও অসচ্ছরিত্রতা সৃষ্টি হয়, এবাদতের আগ্রহ স্তিমিত হয়ে আসে এবং দোয়া কবুল হয় না তেমনিভাবে হালাল খানা অন্তরে এক প্রকার নূর সৃষ্টি হয়। তদ্দারা অন্যায় অসচ্চরিত্রের প্রতি ঘৃণাবোধ এবং সততা ও সচ্চরিত্রের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়, এবাদত বন্দেগীর প্রতি অধিকতর মনোযোগ আসে, পাপের কাজে মনে ভয় আসে এবং দোয়া কবুল হয়। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত নবী ও রসূলগণের প্রতি হেদায়াত করেছেন। যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে হালাল খাওয়া বলে সমস্ত হারাম অন্যায় ভাবে, জোর করে, চিন্তাই, ছুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি, রাহাজানী, সুদ, গোস যে কোন অন্যায়ভাবে খাওয়া তা হলাল নয়। কারণ এগুলো আল্লাহ তায়ালা কোন বান্দাকে রিজিক হিসেবে দান করেননি।

এমনিভাবে সূরা নাহাল এর ১১৪ নাম্বার আয়াতেও হালাল খাওয়ার জন্য বলেছেন। এবং এর পরের আয়াতে হারাম জিনিসগুলোও উলে¬খ করেছেন। সূরা বাকারার ১৭৩ নাম্বার আয়াতে বলেছেন তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকর মাংস, এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্গনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

তাই আসি আমরা সবই সব রকম হারাম থেকে নিজেকে নিজের বাড়ি, সমাজ ও রাস্ট্রকে মুক্ত করে হালাল খাওয়ার ব্যবস্থা চালু করি। নিজে হালাল খাবো অন্যভাইদেরকেও হলাল খাওয়ার পরামর্শ দিবো। না হয় যে আমাদের সমস্ত সব শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর হুকুম পালন করি। দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াব হই।

 

অনলাইন/এইচটি

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.