রাজনীতি
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘সিনহা-কাদের নৈশভোজ’, বিস্মিত বিএনপি : মির্জা ফখরুল

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

প্রধান বিচারপতির বাড়িতে ওবায়দুল কাদেরের নৈশভোজে বিএনপি বিস্মিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসায় গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে বিএনপি বিস্মিত, উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত হয়েছে।

আজ রোববার (১৩ আগস্ট) দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ করেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রদল।

ফখরুল বলেন, “আমরা  খুব উদ্বিগ্ন হয়ে গেছি, আমরা শঙ্কিত হয়ে গেছি আজকের পত্রিকার খবর দেখে।… ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল রাতে প্রধান বিচারপতির বাসায় গেছেন। কখন গেছেন? আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করে তারপরে তিনি প্রধান বিচারপতির বাসাভবনে গেছেন। আমি আরও বিস্মিত হলাম, সেখানে তিনি নৈশভোজ করেছেন!”

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা দুঃখিত হই, লজ্জিত হই, শঙ্কিত হই… গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার জন্য আবার নতুন কী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে!”

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা বাতিল করে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশের পর থেকে তা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ কড়া সমালোচনা করলেও বিএনপি এটাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলছে।

ফখরুল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কী করবেন আমরা জানি না প্রধান বিচারপতি কী করবেন আমরা জানি না। বাংলাদেশের জনগণ কখনো আপনাদের (সরকার) এই অন্যায় মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।”

ষোড়শ সংশোধনীর রায় পরিবর্তনের জন্য বিচারপতি ও বিচার বিভাগের ওপর আওয়ামী লীগ চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে রাজপথে আসুন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করুন।’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কে যেভাবে কথা বলছেন সেটা কোনও রাজনৈতিক ভাষা নয়। এ ভাষা হচ্ছে সন্ত্রাস ও সহিংসতার। অবশ্য এই ভাষায় কথা বলা তাদের চরিত্রও বটে।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

মিলাদ-মহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী,যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল প্রমুখ।

 

অনলাইন/এইচটি 

রাজনীতি | আরো খবর