খেলার মাঠে
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শেষ বেলায় বড় হোঁচট খেলেন উসাইন বোল্ট

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

উসাইন বোল্ট! তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো মানুষ হয়তো পাওয়াই যাবে না। টানা তিনটি অলিম্পিকে তিনটি স্বর্ণ জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন উসাইন বোল্ট। কিন্তু নিজের শেষ বড় টুর্নামেন্টে এসে যে তাঁকে এভাবে হোঁচট খেতে হবে, তা হয়তো কারো কল্পনাতেও ছিল না।

লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটারে ব্যর্থতার পর ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে ফিনিশিং লাইন পর্যন্তও পৌঁছাতে পারলেন না জ্যামাইকান গতি দানব বোল্ট। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে প্রায় ৫০ মিটার দূরে থাকতে লুটিয়ে পড়েন ট্র্যাকেই! ফলে শেষ ইভেন্টে একেবারে খালি হাতেই বিদায় নিতে হলো এই কিংবদন্তিকে।

সাধারণত এমন ১০০ মিটার রিলের হিটে অংশ নেন না উসাইন বোল্ট। শেষ অলিম্পিকেও দৌড়াননি। কিন্তু জীবনের শেষ দৌড়ের আগে তাই হিটে অংশ নিয়ে দলকে ফাইনালেও নিয়েছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের সেরা স্প্রিন্টার। ধারণা করা হচ্ছিল আগের ব্যর্থতা ভুলে শেষটা রাঙিয়েও দিবেন সোনা জিতে।

তবে ওমার ম্যাকলাউড, জুলিয়ান ফোর্টে, ইয়োহান ব্লেকের পর চতুর্থ ও শেষ ল্যাপে দৌড়াতে আসেন বোল্ট। ইয়োহান ব্লেকের কাছ থেকে ব্যাটন নিয়ে সামনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলতে দৌড়ের গতি বাড়াতেই বিপত্তি, পা ধরে লুটিয়ে পড়লেন ট্র্যাকেই। আর এ সুযোগে ব্রিটেনের সোনা জয় নিশ্চিত করেন মিচেল ব্লেক।

লন্ডন স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে দৌড় শেষ করে গ্রেট ব্রিটেন। ৩৭.৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রূপা জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩৮.০৪ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জিতেছে জাপান।

সবার শেষে বোল্ট যখন ব্যাটন হাতে নেন, জ্যামাইকা তখন তৃতীয় অবস্থানে। অন্যসময় সহজেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যেতেন ১০০ ও ২০০ মিটারে বিশ্বরেকর্ডের মালিক। কিন্তু এবার পারলেন না। বরং কিছুদূর যাওয়ার পরই পায়ে টান খেয়ে খোড়াতে শুরু করেন এবং পড়ে যান।

ফিনিশিং লাইন থেকে ৩০ মিটার দূরে থাকার সময় বাঁ পায়ে চোট পেয়ে ট্র্যাকেই পড়ে যান বিশ্বের দ্রুততম মানব। শেষপর্যন্ত আর ফিনিশিং লাইনটাও ছোঁয়া হয়নি জ্যামাইকান এই অ্যাথলেটের। এ নিয়ে সতীর্থদের কাছে বারবার দুঃখ প্রকাশও করেছেন তিনি।

জুলিয়ান ফোর্তে অবশ্য সান্ত্বনা দিয়েছেন বোল্টকে, ‘তিনি বারবার আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু আমরা তাঁকে বলেছি যে তার কোনো দরকার নেই। ইনজুরিটা খেলারই অংশ।’

নিজের শেষ আসরে এমন অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেলেও বোল্টের নাম কোনোদিন মলিন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর আরেক সতীর্থ ওমার ম্যাকলয়েড, ‘এই ব্যাপারটা হয়ে গেছে। কিন্তু উসাইন বোল্টের নাম মানুষ আজীবন মনে রাখবে।’

 

অনলাইন/এইচটি 

খেলার মাঠে | আরো খবর