রাজনীতি
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে কঠোর গোয়েন্দা নজরে খালেদা!

ড. কাজী এরতেজা হাসান (লন্ডন থেকে ফিরে)

লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা না ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। মামলা-মোকদ্দমায় শিগগির সাজা হয়ে যেতে পারে ভেবেই খালেদা জিয়া আগেভাগে লন্ডনে পালিয়েছেন বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন। এরই মধ্যে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ছেলেকে নিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সঙ্গে বৈঠকও করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা উদ্ঘাটনে লন্ডনে খালেদা জিয়ার বাসস্থান এবং আশপাশে গভীর নজর রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়োজিত সেখানকার দূতাবাস কর্মকর্তারা। সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের লোকদের সঙ্গে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান কখন কোথায় বৈঠক করছেন তার সবই বিশেষ নজরদারিতে রেখে সরকারের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাকে তারা অবহিত করছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসার উদ্দেশে গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি লন্ডনের কিংস্টনে বড় ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। সেখানে তারেক রহমানের পরিবার ছাড়াও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। সেখানেই চিকিৎসার ফলোআপ করাবেন তিনি। এর আগে খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

এদিকে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের পরপরই খালেদা জিয়ার সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেন একটি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যাত্রার পরদিনই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার মতো ওই ওয়ান ইলেভেনের সময় সাহস করে খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আসবেন নাকি মামলার ভয়ে সেখানেই থেকে যাবেন- তা কেবল ভবিষ্যতই বলে দেবে। তার পরের দিন মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে এক অনির্ধারিত আলোচনায় খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফর প্রসঙ্গ তোলেন একজন মন্ত্রী।

তখন ওই মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তবে কি উনি (খালেদা জিয়া) আর দেশে ফিরবেন না? মামলার ভয়েই কি লন্ডন পালিয়ে গেলেন? এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অবশ্য আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ‘ভরাডুবি’ টের পেয়ে খালেদা জিয়া আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আর ফিরবেন বলে মনে হচ্ছে না।

তবে রাজনৈতিক মহলে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে ধোঁয়াশার কিছুটা কারণও রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা বলে লন্ডনে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কর্মকর্তা ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে খুব গোপনীয়ভাবে সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি হোটেলে গোপন বৈঠক করেছেন। গোপন ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান, লন্ডনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আরেক যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান এবং লন্ডনে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য আইএসআই’র সাথে সমঝোতা করেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, লন্ডনস্থ পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত জুনায়েদ নামের এক ব্যক্তি, যিনি সম্ভবত পাকিস্তানের আইএসআই’র আন্ডার কাভার একজন অফিসার, তিনি খালেদা জিয়া লন্ডনে পৌঁছানোর পরই দেখা করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ছদ্মবেশী ওই জুনায়েদ লন্ডনে থাকাকালে খালেদাপুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে গোপনে খুবই নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। জুনায়েদের সাক্ষাতের পর পাকিস্তানের আইএসআই’র পূর্বাঞ্চল গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা রিয়াজ আশফাক লন্ডনে পাড়ি জমান এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জুনায়েদ ও রিয়াজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দুটি সাক্ষাৎই ঘটে লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট এরিয়ায় অবস্থিত তাজ হোটেলে ১৮ ও ১৯ জুলাই গভীর রাতে বলে সূত্রে জানা গেছে। সংবাদটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চপর্যায় থেকে এ ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই তাজ হোটেলেই তারেক রহমান বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে গোপন বৈঠক করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গেও এখানে তারেকের সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে জানা যায়। আইএসআই এই হোটেলকে বহুবার তাদের গোপন বৈঠকের জন্য ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৫-৯৬ সালে আইএসআই এই হোটেলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আবদুর রশিদের সঙ্গে বৈঠক করে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানা যায়।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে তখন জানা গেছে, আইএসআই সদস্যরা নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি শহর ব্রেডায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে দেখা করে। এছাড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনৈক খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গেও তারা বৈঠক করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির এক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ফারুক-রশিদদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এলটিটিইর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে শ্রীলঙ্কার এলটিটিই যেভাবে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল, সে ধরনের কোনো প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকেও হত্যা করা যায় কিনা-সে উপায় খোঁজার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু সে সময় ভারতীয় উপমহাদেশের একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ওই চক্রান্ত জেনে যাওয়ায় তা ভেস্তে যায়।

জানা যায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আইএসআই কানেকশনের খবর নতুন নয়। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘খালেদাপুত্রের সহযোগী আইএসআই, উদ্বিগ্ন দিল্লি।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তারেক রহমান ও তাঁর দলকে সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছে আইএসআই। তারেক রহমান উপমহাদেশের সক্রিয় মৌলবাদী ও জঙ্গি নেতাদের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলছেন। এছাড়া পকিস্তানের সাথে বিএনপি-জামায়াতের বন্ধুত্ব বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। শুধু যে বিএনপির বিপদে আইএসআই পাশে দাড়িয়েছে তা নয়, বিএনপিও বিভিন্ন সময় আইএসআইকে সহযোগিতা করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অঞ্চলকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন আইএসআইর জন্য এক প্রকার উন্মুক্তই করে দিয়েছিল।

বর্তমানে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে এই উপমহাদেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, হয়তো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ আওয়ামীবিরোধী চক্র বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে সফররত অবস্থায় শেখ হাসিনার ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এ ছাড়া আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য এ কাজে পারদর্শী পাকিস্তানি জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্য এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সে মোতাবেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। লন্ডনে বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। সেখানে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কাছে কারা কখন আসে এবং কি কি বিষয়ে বৈঠক করে তার ওপরও তীক্ষ্ণ খবরদারি করছে সরকারের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশে থাকাকালীন সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন, সেগুলো আমরা আমলে নেইনি। কিন্তু এখন লন্ডনে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। লন্ডনে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ পেলে অবশ্যই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যা দেখে বিএনপি এবং তাদের রাজনৈতিক জোট জামায়াতে ইসলামী ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সরকারের জনপ্রিয়তাকে দেশের মানুষের কাছে ভিন্নরূপে উপস্থাপনের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। পরিকল্পনা মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার নামে বর্তমানে লন্ডন রয়েছেন। এখানে তিনি ছেলে তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আঁকছেন। সম্প্রতি তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যেখানে জামায়াতে ইসলামী লন্ডন শাখার শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য একটাই, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া। অতীতে যেভাবে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে চেষ্টা করেছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান শরীফ বিএনপি-জামায়াতচক্রের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে বলেন, জীবন বাজি রেখে আমরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, প্রয়োজনে আজ আবারও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে- যেভাবে দেশবাসী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াতের তা-বলীলা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছিল। আর দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই স্বাাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে। লন্ডনে আমরা এ ব্যাপারে খুবই তৎপর রয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে দূতাবাসের সহায়তায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের গতিবিধি ও কর্মকা- সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি জানান।

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বরাবরের মতোই এসব অভিযোগকে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছেন। লন্ডনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আইএসআই বা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের গুঞ্জনকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপির কোনো গোষ্ঠীর বা দেশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন হয় না।

জনগণই বিএনপির শক্তি। মির্জা আলমগীর বলেন, চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন। কিন্তু তিনি লন্ডন যাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশের মূল সমস্যা নির্বাচন থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে ভিত্তিহীন, মিথ্যাচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেতারা। এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে খালেদা জিয়া ভারত সফরেও যেতে পারেন। এজন্য বেশ তৎপরতাও শুরু করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সবুজ সঙ্কেত পেলে ভারত সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবেন তিনি। এজন্য ২০১৩ সাল থেকেই লন্ডনে বসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদাপুত্র তারেক রহমান গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের একটি অংশের সঙ্গে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমর্থক লন্ডনপ্রবাসী ভারতের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তার। এক্ষেত্রে বাদ সেধেছে বেগম জিয়ার আইএসআই কানেকশন।

বিজেপি সরকারের পক্ষটি সাফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের উগ্র ইসলামপন্থি দল জামায়াত এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে তারা অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু ইতোমধ্যেই আইএসআই’র সাথে খালেদা জিয়ার চাঞ্চল্যকর বৈঠকটির কারণে ভারত সফর কতোটা ফলপ্রসূ হবে তা সময়ই বলে দেবে।

রাজনীতি | আরো খবর