‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’

মঙ্গলবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

রাগ আমাদের আবেগের একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এটি যখন নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে তখন তা আর কোন স্বাভাবিক ব্যাপার থাকে না। সে সময় প্রয়োজন পরে একে নিয়ন্ত্রণের। নয়তো এটি আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ক্যারিয়ার ও সামাজিক জীবনকেও করতে পারে ক্ষতিগ্রস্থ।

সবাই এখন একটা কথা খুব ভালভাবেই জানেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ কিন্তু ব্যাপারটা তো আসলে কেবল হার–জিতের নয়। রাগের মাথায় আমরা অনেক কথাই বলে ফেলি যা কখনো কাম্য নয়, অনেক কিছুই করে ফেলি, যা নিজেদেরই বিপদে ফেলে। মুশকিলটা এখানেই। রাগান্বিত অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক না।

জীবনের নানা ধরনের ঝুট-ঝামেলা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমরা প্রায়শই রেগে যাই। অনেকসময় সেটির মাত্রা বেশি হওয়ায় কিছু একটা করেও বসি। এতে আশেপাশের মানুষ কিংবা সহকর্মীরা আপনার সম্পর্কে একটি খারাপ ধারণা নিতে পারে।

তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করে মাথা ঠান্ডা রাখাটা জরুরি। বাড়িতেই হোক কিংবা কর্মক্ষেত্রে বা বন্ধুদের আড্ডায়, হঠাৎ রাগ হতেই পারে। আকস্মিক রাগ নিয়ন্ত্রণে কিছু বিষয় চর্চা করা যেতে পারে।

গভীরভাবে শ্বাস নিন
যদি বুঝতে পারেন যে আপনার রাগ হচ্ছে, তাহলে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। গভীর দম নিয়ে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। আস্তে আস্তে দম ছাড়ুন। এতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মন অন্যদিকে যাবে। আর গভীর শ্বাস তাৎক্ষণিকভাবে আপনার মাথায় অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়াবে, মাথায় রক্ত চলাচল হবে। ফলে আপনি একটু চাঙা বোধ করবেন। ঠান্ডা মাথায় বিষয়গুলো ভাবার সময় পাবেন।

চোখ বন্ধ, কানও বন্ধ
রাগের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে শুধু ঠোঁট নয়, চোখ আর কানও বন্ধ করে ফেলতে হবে। এই পরামর্শে মেজাজ খারাপ হতে পারে বটে, কিন্তু এটা সত্যিই কার্যকর। যে আপনাকে রাগিয়ে দিচ্ছে বা যা নিয়ে আপনি রেগে যাচ্ছেন, কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে সেখান থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন। যেন আপনি সেখানে থেকেও নেই। তবে আপনার অভিব্যক্তিতে এমন কিছুই আনবেন না, যা আপনার প্রতিপক্ষকে আপনার মনের ভাব বুঝতে দেয়। আপনি কেবল সাময়িকভাবে দেখাশোনা বন্ধ করে দিন।

ঠোঁট বন্ধ রাখুন
রাগ উঠে গেলে বা কেউ খোঁচাতে থাকলে মুখ বন্ধ করে রাখাটা কঠিন বটে। কিন্তু এ সময় ঠোঁটে তালা মেরে রাখতে পারাটা দারুণ কার্যকর। অপরপক্ষকে মনের ঝাল মেটাতে দিন কিন্তু আপনি টুঁ শব্দটিও করবেন না। এর মধ্য দিয়ে অপরপক্ষের মনের কথাগুলো আপনি জেনে গেলেন। ধৈর্য ধরে রাখতে পারলে পরে বিষয়গুলো নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। এই চর্চা আপনাকে শক্তিমান করবে।

বিরতি নিন
রাগের সময় কোন কাজ করতে যাবেন না।  চুপচাপ একলা থেকে রাগ কমানোর পর্যন্ত বসে থাকুন। অফিসে বা বাসায় যে কারো ওপর রাগ উঠলে তা প্রকাশ করে নিজেকে সবার সামনে নিচু করবেন না। যার ওপর রাগ উঠেছে চুপচাপ সাধারণ ভদ্রতা দেখিয়ে তার সামনে থেকে চলে আসুন। খানিকক্ষণ একলা থাকুন, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি করুন। এরপর কাজে আসুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান
যদি রাতে ঘুম ভালো না হয় তবে সকাল থেকেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। অযথাই ছোটখাটো ঘটনায় রাগ উঠে। সুতরাং রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে রাতে ভালো করে ঘুমাতে হবে।

মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে নিন
যে কারণে রাগ উঠছে সেই কারণ থেকে মনযোগ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। কোন ঘটনা নিয়ে রাগ উঠলে পুরো দিন তা নিয়ে বসে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। মনকে অন্য কাজে ব্যস্ত করুন। পছন্দের গান শুনুন কিংবা মজার কোন ভিডিও

ব্যায়াম করুন
রাগ কমানোর সব থেকে স্বাভাবিক ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উপায় হচ্ছে ব্যায়াম করা। জিম কিংবা ঘরে বসে যোগব্যায়াম করুন। শারীরিক ব্যায়ামের ফলে মস্তিস্কে সেরেটেনিন ও এন্ডরফিন নামক দুটি হরমোন নিঃসরণ হয় যা সুখের অনুভুতির সৃষ্টি করে। মস্তিস্ক ঠাণ্ডা রাখার প্রাচীন উপায় হচ্ছে যোগ ব্যায়াম।

উলটো সংখ্যা গুনুন
সাধারনত আমরা বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সময় এই উপায়টা অবলম্বন করতে বলি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যখন আপনি খুব রেগে আছেন ১০০ থেকে ১পর্যন্ত উলটো করে গুণলে আপনার রাগ কমে যাবে অনেকটাই! বিশ্বাস না হলে একবার চেষ্টা করেই দেখুন না!

 

অনলাইন/এইচটি 

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.