জাতীয়
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মনের জোর ফিরে পাচ্ছে মুক্তামনি

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

বিষণ্নতা কেটে গেছে মুক্তামনির। সফল অস্ত্রোপচারের পর এমনটাই জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। রবিবার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন এবং ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন একথা জানান।

ভারমুক্তির একটা অনুভব হচ্ছে মুক্তামণির। ইতিমধ্যে অস্ত্রোপচারের ধকল সে খানিকটা কাটিয়ে উঠেছে। ফিরে পাচ্ছে মনের জোর। বাবার কাছে জানতে চাইছে, ‘আমি তো আগের চাইতে অনেক ভালো হয়ে গেছি, তাই না আব্বু?’

রক্তনালির টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামণির গতকাল শনিবার (১২ আগস্ট) অস্ত্রোপচার হয়। ওর ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল অস্ত্রোপচার শেষে ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকেরা জানান, প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। হাত অক্ষত রাখা গেছে। তবে শরীর থেকে সব টিউমার সরাতে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি অস্ত্রোপচার লাগবে। শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক করা হবে।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেনও জানিয়েছেন অপরেশনের পর মুক্তামণি ভালো তবে ঝুঁকিমুক্ত নয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখন তার (মুক্তামনি) সামনেই বসে রয়েছি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছি তুমি কেমন আছো সে বলেছে, সে ভালো আছে, আপনি কেমন আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মুক্তমানির ক্ষুধা পেয়েছে। তার জন্য উপযোগী খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ওর খাওয়া শেষে এখান থেকে বের হবো। তাতে অপারেশনের পর মুক্তার শারীরিক অবস্থার কতটুকু উন্নতি হলো সেটা টের পাওয়া যাবে।’ তবে তাকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করতে আরও বেশ সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন আজ বলেন, ‘আল্লাহর রহমত, চিকিৎসকদের চেষ্টা আর কোটি কোটি মানুষের দোয়ায় মেয়ে আমার অনেক ভালো আছে। কাল অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরেই কথা বলেছে। আজ বারবার জানতে চাইছে, ও ভালো আছে কি না। ওর শরীরটা তো এখন অনেক হালকা হয়ে গেছে। এখন হাতে যন্ত্রণা থাকলেও ভালো আছে। সকালে স্যুপ খেয়েছে।’

সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামণির ডান হাতে সমস্যা শুরু হয়। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দি হয়ে পড়ে।

মুক্তামণির রোগ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

গণমাধ্যমে তার খবর প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় সরকার। ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অধীনে।

ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হলে তারা এই অসুখ নিরাময়যোগ্য নয় বলে মত দেয়। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা তার বিষয়ে আশা না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুক্তামণির রোগটিকে বিরল রোগ বলা হলেও গত সপ্তাহে তার বায়োপসি করার পর জানা গেছে মুক্তামণির রক্তনালিতে টিউমার হয়েছে যেটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেমানজিওমা বলা হয়।

 

অনলাইন/এইচটি 

জাতীয় | আরো খবর