জাতীয়
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভাষার মাস

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মিছিলে হামলার প্রতিবাদ এবং শহীদ স্মরণে অনেক গান ও কবিতা লেখা হয়েছে। এখন প্রভাতফেরিতে একটি গানই গাইতে দেখা যায়। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা ও আলতাফ মাহমুদের সুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রূয়ারি গানটি এখন হয়ে গেছে একুশের গান।

১৯৫৩ সালে প্রথম প্রভাতফেরিতেও গাওয়া হয় গান। অনেকেই এখন মনে করতে পারেন না প্রথম প্রভাতফেরিতে কোনো গানটি গাওয়া হয়েছিল। বরিশালের মোশারফ উদ্দিন আহমদ লিখেছিলেন, ‘মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করিল/ ভাষা বাঁচাবার তরে/ আজিকে স্মরিও তারে।’ এই গানটি প্রথম প্রভাতফেরির অনেকগুলো মিছিলে গাওয়া হয়েছিল। গানটির প্রথম সুর করেছিলেন গীতিকার নিজেই। পরে আলতাফ মাহমুদও নতুনভাবে সুরারোপ করেন।

গাজীউল হক লিখলেন একটি গান, ‘ভুলব না ভুলব না/একুশে ফেব্রূয়ারি ভুলব না/ লাঠি গুলি আর টিয়ারগ্যাস/ মিলিটারি আর মিলিটারি/ভুলব না।’ প্রখ্যাত গণসঙ্গীত গায়ক, সুরকার ও নৃত্য পরিচালক নিজামুল হক গানটির সুর করলেন। তৎকালীন জনপ্রিয় একটি হিন্দি চলচ্চিত্রের গান ‘দূর হটো, দূর হটো, দূর হটো এ দুনিয়া ওয়ালে’ এর সুুরে নতুন গানের শব্দগুলো স্থাপন করলেন তিনি। কয়েক বছর এই গান দুটি নিয়মিতই গাওয়া হতো।

প্রখ্যাত রমেশ শীল নিজের লেখায় গাইলেন, ‘ভাষার জন্য জীবন হারালি/ বাঙালি ভাইরে রমনার মাটি রক্তে ভাসাইলি।’ আবদুল লতিফ বাঁধলেন, ‘ওরা আমার মুখের ভাষা/ কাইড়া নিতে চায়/ওরা কথায় কথায় শিকল পরায়/আমার হাতে পায়।’

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস লিখলেন, ‘শোন দেশের ভাই-ভগিনী/শোন এক আচানক কাহিনী/ কান্দে বাংলা জননী ঢাকার শহরে।’ কবি হাসান হাফিজুর রহমান লিখেছিলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরবে/ যৌবন ফুল ফোটে রক্তের অনুভবে/ শহীদ মুখের স্তব্ধ ভাষা/ আজ অযুত জনের বুকের আশা/ওদের মরণে প্রাণ পেলাম আমরা সবে।’ শেখ আবদুর রহমানের সুরে গানটি জনপ্রিয় হয়েছিল।

খুলনার বাগেরহাটের এক তেলি শামসুদ্দিন আহমদ হাটে-বাজারে তেল বিক্রি করতেন আর গান গাইতেন ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙালি/ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি।’ এই গানটির ব্যাপারে কামাল লোহানী লিখছেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম্য কবির মনের যে আকুতি প্রাণের টানে তা এসে গেল ঢাকা শহরে, মিশে গেল সংস্কৃতি আন্দোলনের মূল স্রোতধারায়। আলতাফ মাহমুদ যখন শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে হারমোনিয়ামের রিডে হাত রেখে বুকটা টান করে গলাটাকে আকাশপানে ছুড়ে দিয়ে ধরতেন আর ভাঙা ভাঙা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে গাইতেন এই গান, তখন শ্রোতামোণ্ডলীকে আমি ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেছি।’

ভাষা আন্দোলন নিয়ে আরও অনেক গান রচিত হয়েছে। তবে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রূয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি/ ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রূগড়া এ ফেব্রূয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি পেয়ে গেছে অমরত্ব। ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রূয়ারি ঢাকা কলেজের ছাত্ররা একটি লিফলেট প্রকাশ করে। সেখানে কবিতাটি ছাপা হয়।

 

ভোরের পাতা/ডিএইচ

জাতীয় | আরো খবর