প্রভাব খাটিয়ে বিচারের বাইরে তজু রাজাকার!

শনিবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

গ্রামের মানুষ উন্নয়ন চায়, কাজ চায়। শিল্পকারখানা স্থাপন হলে কাজ পাবে এমন আশা নিয়ে থাকে।

কিন্তু ফেনীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত কথিত শিল্পপতি তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজু রাজাকারের কারণে সরকার ফেনীতে একটি বিশেষায়িত ইপিজেড নির্মাণের উদ্যাগ নিলেও তা বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এর কারণ তজু রাজাকারের বিরোধিতা। জানা গেছে, এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান তজু রাজাকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ফেনীর ধর্মপুরের সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামান। ভোরের পাতার নিজস্ব অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাধীনতাবিরোধী ফেনীর ত্রাস কথিত শিল্পপতি তজু রাজাকার অর্থের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ইপিজেডবিরোধী আন্দোলন করতে অর্থের জোগান দেন। ঘটনার শুরু ২০০৮ সালে। তখন ফেনী শহরের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধর্মপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন এলাকায় সামরিক ভূমির ১৫৫ একর জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ৩৪৫ একর জমিসহ সর্বমোট ৫০০ একর জমির ওপর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের অর্থায়নের সংস্থান রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেনী রফতানিকারক এলাকা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু এ এলাকায় তজু রাজাকের গ্রামের বাড়ি হওয়ার কারণে তিনি সরাসরি এ প্রকল্পটির বিরোধিতায় নামেন। প্রথমে তিনি নিজে কিছু করতে না পেরে স্থানীয় অসহায় গ্রামবাসীকে আন্দোলনে নামার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দেন। শুধু তাই নয়, এ এলাকায় যাদের জমি নেই তাদেরও অন্য এলাকা থেকে নিয়ে আসেন। এতে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করে ইপিজেডবিরোধী আন্দোলন জোরদার করেন তজু রাজাকার ও তার ক্যাডারবাহিনী।

তার অর্থের প্রভাব এত বেশি যে, সাধারণ একটি বিক্ষোভ মিছিল ফেনীর ইপিজেড ঠেকাও আন্দোলনে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় জনতাকে শান্ত করতে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শুধু তাই নয়, পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে থামাতে গিয়ে গুলিবর্ষণ করলে এক শিশুসহ ২ জন মারা যায়। এর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিশেষ নির্দেশে জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষায় ইপিজেড নির্মাণের আদেশ স্থগিত করা হয়, যা ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই ইপিজেডের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে তজু রাজাকারকে ফেনী ইপিজেড নির্মাণে প্রধান বাধা উল্লেখ করে আন্দোলনের জন্য দায়ী করা হয়।

শুধু তাই নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর তজু রাজাকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বিশেষ সুপারিশ করে বেপজা কর্তৃপক্ষ, তদন্ত করলে এখনও এ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্মপুরের এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তজু রাজাকার এ দেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইবেন এটা আশা করাটাও পাপ। তিনি বলেন, তজু রাজাকারের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা। অনেকে তার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে গেলেও এখন আর কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। এর কারণ হলো তজু রাজাকারের প্রভাব এখন সর্বত্র। অজানা কোনো ক্ষতি হবে, এজন্য কেউই কথা বলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন (তজু) এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে কিছু লোক। তারা আমার ভালো চায় না বলেই আমার নামে অপবাদ দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ও আবদুল ওহাবকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজু রাজাকার এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন তোফাজ্জল হোসেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে। সে নির্যাতনের অন্যতম হলো মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ও আবদুল ওয়াহাব হত্যাকান্ড।

 

অনলাইন/কে

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.