খেলার মাঠে
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘পদ নয়, চাই টেনিসের উন্নয়ন’

:: সফিকুল ইসলাম রাসেল ::

টেনিস একটা আর্ন্তজাতিক খেলা। বাংলাদেশেও যে টেনিস খেলা হয় এটা অনেকেই জানে না। বাংলাদেশের ও টেনিসে একটা ঐতিহ্য আছে যা এখন বিলীন প্রায় এই ব্যাপারে সাবেক টেনিস খেলোয়াড় ,ইউরো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে টেনিস ফেডারেশনের সহ- সভাপতি ইঞ্জি: এ. এস. এম হায়দার বলেন, টেনিস একটা ভালোবাসার নাম। আমি স্কুল জীবন থেকেই টেনিস খেলি। একটা সময় বাংলাদেশের টেনিসে একটা ঐতিহ্য ছিল যখন আমরা খেলতাম। আমরা চ্যাম্পিয়ন ও হয়েছি। কিন্তু বর্তমানে টেনিস মুমূর্ষু অবস্থায় আছে টেনিস। আমি নিজের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় রমনা জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে এ ৬ দিনব্যাপী স্বাধীনতা দিবস টেনিস প্রতিযোগিতা করি। এ টুর্নামেন্টে ১৯ দলের দুই শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী করে – বিকেএসপি, জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্স, নওগাঁ টেনিস ক্লাব, নরসিংদী টেনিস ক্লাব, ঝালকাঠি টেনিস ক্লাব, মাদারীপুর টেনিস ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ার্স রিক্রিয়েশন সেন্টার, ঢাকা ক্লাব লি., উত্তরা ক্লাব লি., গুলশান ক্লাব লি., অফিসার্স ক্লাব, গুশলান ইয়ুথ ক্লাব, বৃটিশ হাই কমিশন ক্লাব, নেভী ক্লাব, আমেরিকান ক্লাব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলা, আনসার ও ভিডিপি টেনিস ক্লাব, নরডিক ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব।

টেনিস ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে তারা তিন কিস্তির টাকা উত্তোলন করে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি করা হয়। তবে আগেরগুলোর কোন হিসাব নেই। টাকা কোন ক্ষেত্রে খরচ হয়েচে টাকা গুলো কই তা আমরা জানি না। এই জন্য শেষ কিস্তি পাওয়া যায় আগেরগুলোর হিসাবে দিতে না পারায়। ৮ লাখ ২৪ লাখ ৬৮৭ টাকা ফেরত দিতে হয় । যা একটা বিড়াট ব্যর্থতা।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের কথা, ‘আগের কমিটি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে চেষ্টা করেছিলাম বাকি অর্থ উঠিয়ে কার্যক্রম চালাতে। কিন্তু এ অর্থ পাওয়া যায়নি।’ বাট এই ভাবে টেনিসের উন্নয়ন সম্ভব না। যারা টেনিসকে ভালোবাসে এমন মানুষই দরকার। কোন ব্যবসায়ি না, যারা টেনিস কি জিনিস বোঝেই না এমন মানুষ দিয়ে কমিটি করলে বা এমন মানুষ নিয়ে টেনিস আগালে, আগানো হবে না ঐ খানেই থেমে যাবে। টেনিসকে সামনে নিতে হলে যোগ্য মানুষ দরকার যারা টেনিসকে ভালোবাসবে টেনিসের স্বার্থে নিজের জন্য নয়। একমাত্র যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ই টাকা ফেরত দিতে হলো।

তিনি বলেন এক মাত্র টেনিসেই খুব সহজে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ আছে। একটা ছেলে বা মেয়ে যদি ১২ বছর থেকে খেলা শুরু কওে তো ৩ বছর প্রাক্টিস করলে সে একটা ভালো অবস্থান করতে পারবে। যদি সে এক বছর বিদেশ দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে তো ১৬ বছর বয়সে সে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হবে। এত কোন সন্দেহ নাই। টেনিসে আজকাল কাউকেই পাওয়া যায় না। আমি নিজের উদ্যোগেই খেলোয়ার রুম, কোচের রুম সংস্কার কওে দিয়েছি। আমার কোন ইচ্ছা নেই কোন পদ নেওয়ার আমি শুধু চাই দেশে টেনিস তার আগের জায়গায় ফিরে আসুক।

তিনি দুঃখের সাথে বলেন, ‘আমি কাজ করতে চাই তাই যারা কাজ করতে চান না তারা কাজ না করলেও সাহায্য করেন বাধা দিয়েন না। এত ক্ষতি টেনিসের। আমাদের যে টাতা ফেরত দিতে হয়েছে সেই টাকায়ই প্রতিভা অন্বেষনের ৪ বছরের কর্মসূচিই শেষ করা সম্ভব। শুধু দরকার কাজের মানুষ। এখন অনেকেই আসে না, এক সময় আমারও ভালো লাগবে না আসতে। কেউ নিজের পকেটের টাকা খরচ করবে না। আসলে টাকা দেওয়ার মানুষের অভাব নাই। অভাব টেনিসকে ভালোবাসার আর বোঝার মানুষের। আমি চেষ্টা করছি টেনিসের জন্য কিছু করার বাঠ আমাকে সাহায্য না করলেু যদি টেনে ধরা হয তাহলেতো আমি আগাতে পারবো না। আমার পদের দরকার নাই আমার দরকার টেনিসের উন্নয়ন। তাই সবাই মিলে আসেন টেনিসের উন্নয়ন করি হাতে হাত মিলিয়ে।

বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচন হচ্ছে না টানা ১১ বছর ধরে। এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে চলছে ফেডারেশন। ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নেই টেনিস সংগঠক। ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত থাকেন সর্বোচ্চ ৫-৬ জন। প্রতিভা অন্বেষণ না থাকায় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের টেনিস প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। কমিটির লোকরা নিজেদেও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি টেনিসের উন্নয়নে তারা প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না। সবকিছু মিলিয়ে টেনিস ফেডারেশনে চলছে সীমাহীন দুরবস্থা। সর্বশেষ ২০০৪ সালে টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন সানাউল হক বকুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ক্ষমতায় আসে। ২০০৮ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গেলে কাউন্সিলর জটিলতায় পড়ে। এখনও অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলছে ফেডারেশন। দেশের প্রায় সব ক্রীড়া ফেডারেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু টেনিসেই কেন হচ্ছে না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। নির্বাচন না হওয়ায় যোগ্য সংগঠকদের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। নির্বাচনের মাধ্যমে ভালো ও যোগ্য সংগঠকরা ফেডারেশনে আসতে পারবেন এবং টেনিসের উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।’

বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় রমনাস্থ জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে জানুয়ারী ২০১৭ তে ১৫ দিন ব্যাপী শীতকালী টেনিস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত করা হয়। ১ম থেকে ৮ম শ্রেণির স্কুলের শিক্ষাথীরা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের সার্টিফাইড লেভেল-২ প্রশিক্ষক বিকেএসপির চীফ কোচ জনাব রোকন উদ্দিন আহমেদ ওই প্রশিক্ষণ তত্বাবধান করেন। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ১৯৭৪ (হালনাগাদ সংশোধিত) – এর ২০ এ (বি) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে তদস্থলে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ২৮ সদস্য বিশিষ্ট নব নিযুক্ত কমিটিতে ১ জন সভাপতি, ১ জন সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ৫ জন সহ-সভাপতি, ২ জন যুগ্ম-সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং ১৮ জন সদস্য রয়েছেন।

 

ভোরের পাতা/ই

খেলার মাঠে | আরো খবর