রাজনীতি
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নতুন কৌশলে আ.লীগ, আসছে চমকের পর চমক

সেপ্টেম্বর থেকে ৯টি সেমিনার হবে

:: ইসহাক আসিফ ::

বেশ গতির সঙ্গে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রস্তুতি। আগামী মাস (সেপ্টেম্বর) থেকে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় কৌশল অবলম্বনে যাচ্ছে দলটি। বলা যেতে পারে, ওই কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় চমকও দেখাতে পারে আওয়ামী লীগ।

গেল বছরের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন থেকে ওই প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দলটি। আর এই প্রস্তুতিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে প্রায় তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার মাধ্যমে।

গত বুধবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির বৈঠক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সিরিজ সেমিনার করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিনে তার অর্জন, কর্মময় জীবন এবং আন্দোলন সংগ্রামের ওপর সেমিনার ও ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারণাও চালানো হবে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৯টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারিতে আমরা নির্বাচনী বছরে প্রবেশ করবো। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কিভাবে চালানো যায় এ জন্য ৬ সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. হাছান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে তার জবাবও আমরা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমেই দেবো।

গত মে মাসে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তৃণমূল থেকে আগত নেতাদের আগামী নির্বাচনে প্রস্তুতিবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি নেতাকর্মীদের বিভেদ ও দ্ব›দ্ব-দূরত্ব ভুলে যেকোনো মূল্যে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কাজ করতে বলেন শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, ওই বর্ধিত সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে গত কয়েক বছরে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে সহিংসতার চিত্র। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণকে জানানোর জন্য নেতাদের সরবরাহ করা হয়েছে বই, সিডি-ডিভিডি, বুকলেট এবং লিফলেট। সরবরাহ করা হয়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও তুলনামূলক চিত্রের পরিসংখ্যান।

এছাড়া, প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে একটি করে ল্যাপটপ। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কৌশলগতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে দলের তৃণমূল নেতাদের।

এদিকে সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের এখনো বাকি প্রায় দেড় বছর। আগামী বছর শেষদিকে কিংবা ১৯ সালের শুরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা।

তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, তা হলে এখনই এত তোড়জোড় কেন? সরকারি দলের প্রচার-প্রচারণাসহ সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনী বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে নানাভাবে এর পোস্টমর্টেম হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে একেবারে টিভি টকশো পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই সরগরম এসব আলোচনা।

 

অনলাইন/এইচটি

রাজনীতি | আরো খবর