আনন্দবাজার
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নওশাদকে হামলার ভিডিও প্রকাশ

এবার নিষিদ্ধ খোকন

:: মেহেদী সোহেল ::

সেন্সর বোর্ড সদস্য ও ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ওপর হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে।

গত শনিবার বিকেলে প্রকাশিত ঐ ভিডিও চিত্রে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ওপর প্রথম হামলা করতে দেখা যায় প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরুকে। তিনি নওশাদকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে গিয়ে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন ও চিত্রনায়ক রিয়াজ। লাঞ্ছিত হওয়ার পর পুলিশ নওশাদকে সেন্সরবোর্ড অফিসে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ কয়েকজন নওশাদের গায়ে হাত তোলেন।

যৌথ প্রযোজনার অনিয়ম বন্ধের দাবিতে ২১ জুন সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে ‘চলচ্চিত্র পরিবার’ নামের ১৮ সংগঠনের ঐক্যজোট। সেখানেই এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার ইফতেখারউদ্দিন নওশাদ। এ ঘটনার জন্য প্রথম থেকেই ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, চিত্রনায়ক রিয়াজ ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকে দায়ী করে আসছিলেন।

ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ফোনে কথা বলতে বলতে সেন্সর বোর্ডের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন নওশাদ। পাশ থেকে ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসেন খসরু। তিনি দুই হাতে নওশাদকে সামনে টেনে আনেন। এরপর জোরে ধাক্কা দিতে দিতে ক্ষুব্ধ কর্মীর ভিড়ের দিকে ঠেলে দেন। এ বিষয়ে কথা বলেত বেশ কয়েকবার খোরশেদ আলম খসরুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, আমি যৌথ প্রযোজনার ছবি দুটির (নবাব ও বস-টু) প্রিভিউ করতে সেন্সর বোর্ডে যাচ্ছিলাম। বোর্ডের সদস্য হিসেবে সরকারি কাজে আমি সেখানে যাই। গেটে ঢোকার আগ মুহূর্তে মিশা সওদাগর আমাকে ডাকেন। সঙ্গে ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ও প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু ও চিত্রপরিচালক বদিউল আলম খোকন। খোকনকে আমি চিনতাম না তাই আগে নাম বলতে পারিনি। তবে ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর খোকনের নাম জানতে পারি। খসরু ও খোকনই আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেন। এরপর অন্যরা চলে আসেন। এজন্য আমরা যে তিন জনের (খসরু, মিশা ও রিয়াজ) চলচ্চিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি সেই তালিকাতে এবার খোকনের নাম যুক্ত করা হলো। খোকনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আগামী ৮ আগস্ট প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সভায় ঘোষণা করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপনি কি ধরনের আইনের আশ্রয় নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাদ বলেন, আমি সরকারি কাজে সেখানে গিয়েছিলাম, তখন আমার উপর হামলা হলো। হামলাকারীরা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে সরকারের লোককে লাঞ্ছিত করেছে, তাই এর ব্যবস্থা সাধারণত সরকারিভাবেই হওয়ার কথা। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী বলেছেন তিনি নিজে বিষয়টি দেখবেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এখন পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেননি। থানায় আমি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

 

ভোরের পাতা/ই

আনন্দবাজার | আরো খবর