তরুণদের পছন্দ দ্বী-চক্রযান

বুধবার , ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ২:৩৪ অপরাহ্ন

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

এখনকার তরুণরা বাহন হিসেবে সাইকেল বেছে নিচ্ছে তিন কারণে। সময় বাঁচে, টাকা বাঁচে, স্বাস্থ্য ঠিক রাখে। চমৎকার চিন্তা-ভাবনা, সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

গাড়ি, বাস কিংবা রিকশা নয়, যানবাহন হিসেবে ইদানীং তরুণেরা ‘লাইক’ দিচ্ছেন সাইকেলকেই! বাসের ভিড়ে চিড়ে-চ্যাপ্টা হওয়া, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি আর রিকশাচালকদের নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে দেওয়া, ‘যামু না’—এ অবস্থায় সাইকেল তরুণদের কাছে ‘স্বাধীন যানবাহন’। নিজের ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ানো যায় যখন যেখানে খুশি। তীব্র যানজটে বিশালদেহী গাড়ি-বাসগুলো যখন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, সাইকেল ঠিকই এঁকেবেঁকে এগিয়ে যায়! এই সুবিধা তরুণদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে আরও বহু গুণ।

মাহফুজুর রহমান লেখাপড়ার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে প্রথমে ক্লাস, ক্লাস থেকে আবার অফিস। প্রতিদিন রাস্তায় আমার চার-পাঁচ ঘণ্টা কেটে যেত। এখন সাইকেল কিনে নিয়েছি। যাতায়াতে সব মিলিয়ে খুব বেশি হলে এক ঘণ্টা খরচ হয়।’ শুধু যে ছেলেরাই সাইকেলে যাতায়াত করছেন, তা না। মেয়েরাও প্রতিদিনের বাহন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন সাইকেল।

দল বেঁধে সাইকেল চালানো- 
তরুণদের সাইকেলের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পেছনে একটা অবদান আছে বিডি সাইক্লিস্টের। এমনটাই মনে হলো উত্তরাবাসী আমজাদ হোসেনের কথায়। তিনি বলেন, ‘একদিন দেখি, রাস্তায় দল বেঁধে একটার পর একটা সাইকেল যাচ্ছে। প্রথমে ভাবলাম, বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বেরিয়েছে। এক, দুই, তিন… করে সাইকেল গুনতে গুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম, সাইকেল আর শেষ হয় না! খোঁজ নিয়ে জানলাম বিডি সাইক্লিস্টের কথা। ওদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে সাইকেল কিনে ফেললাম।’

বিডি সাইক্লিস্ট বাংলাদেশে সাইকেলচালকদের একটি দল। সাইকেলচালকদের নিয়ে তৈরি এ দলটির প্রতিষ্ঠাতা মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবেশবান্ধব এ বাহনটির প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। যখন সাইকেল চালাই, নিজেকে অনেক স্বাধীন মনে হয়। সময় বাঁচে, খরচ বাঁচে, ব্যায়াম হয়, মনটাও প্রফুল্ল থাকে।

সাবধানতা- 
সাইকেল চালানোর স্বাধীনতায় একটু ভয় যোগ করে দেয় দুর্ঘটনা আর সাইকেল চুরি হওয়ার শঙ্কা। দুর্ঘটনা এড়াতে সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার করা উচিত। চুরি ঠেকানোর জন্য ভালো মানের তালা ব্যবহার করুন।

এ ছাড়া কোথাও সাইকেল রাখলে আশপাশের কোনো দোকানদার কিংবা দারোয়ানকে ‘একটু দেখে রাখার’ অনুরোধ করতে পারেন। তরুণেরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অফিসগুলোতে সাইকেল রাখার ব্যবস্থা থাকলে এ বাহনটি আরও জনপ্রিয়তা পাবে।

 

ভোরের পাতা/এইচটি

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.