ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভাসমান বাজার

বুধবার , ১১ জানুয়ারী ২০১৭, ৯:৪২ অপরাহ্ন

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশে ইজারাদারদের সহায়তায় বাজার বসেছে

:: বায়েজীদ আকন্দ, শ্রীপুর ::

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর ইজারাদারদের সহায়তায় অবৈধভাবে বসছে ভাসমান বাজার।

অনুমতিবিহীন ও অব্যবস্থাপূর্ণ যত্রতত্র বাজার বসায় মহাসড়কে যানজট দিনদিন বেড়েই চলেছে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় গত তিন মাসে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে যেখানে সেখানে বাজার বসায়।

জানা যায়, বাঘের বাজার এলাকা হতে ভালুকার বগারবাজার পর্যন্ত মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের এলাকা। হাইওয়ে থানা এলাকার বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, ১নং সিএন্ডবি, মাওনা ফ্লাইওভার, চৌরাস্তা কাঁচাবাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর, জৈনা বাজারসহ কমপক্ষে ৩০টি স্থানে মহাসড়কের ওপরেই যত্রতত্র বসছে অবৈধ হাটবাজার। কোনো কোনো স্থানে প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া ইজারার কাগজও দেখান কথিত ইজারাদাররা। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এসব অবৈধ হাটবাজার, কাঁচাবাজার যথাযথ কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এসব হাটবাজারের পিছনে পুলিশের অদৃশ্য যোগসাজশ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতি দোকানের জন্য ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হয়। ‘ইজারাদারে’র আদায়কারী জানায়, খাজনা এতো হওয়ার কথা ছিল না, যেহেতু প্রশাসন ও পুলিশকে ম্যানেজ করে এই দোকানগুলো দেওয়া হয়, সেজন্য বেশি টাকা নিতে হচ্ছে। এমন অনেক দোকানদার আছে যারা একটি ভাল পজিশনে ভ্রাম্যমাণ দোকান নেওয়ার জন্য আগে থেকেই ইজারাদারকে মোটা অংকের বখশিশ দিয়ে থাকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের চটপটি দোকানদার হাতেম আলী জানান, তিনি প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানদারি করেন। তিনি ‘ইজারাদার’দের দৈনিক ১০০ টাকা করে দিয়ে প্রতিদিন রসিদ সংগ্রহ করেন।

ফুটপাতের ভাসমান দোকানদার মাসুদ মিয়া, কামরুল ইসলাম, জয়নাল মিয়া, রমিজ উদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক দোকানদার জানান, প্রতিদিনই তাদের কাছে ইজারাদারের লোক এসে ১০০ টাকার রসিদ দিয়ে টাকা নিয়ে যায়। মাওনা ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই লেনের ওপর ভাসমান কাঁচাবাজারের দোকানদার কাঞ্চন মিয়া জানান, প্রতিদিন দোকান খুললেই ইজারাদারদের ২৫০ টাকা দিতে হয়।

এদিকে একই স্থানের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন, কাজল মিয়া, নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালামসহ প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানদার জানান, তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে রসিদের মাধ্যমে নিচ্ছে। গাজীপুর শাহীন স্কুলের অভিভাবক স্বপন মিয়া জানান, মহাসড়কের ওপর অবৈধভাবে কাঁচাবাজার বসানোর কারণে মাওনা চৌরাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। ৫ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে আধঘণ্টা সময় লাগে। ট্রাক ড্রাইভার আলম মিয়া জানান, মহাসড়ক চার লেন করা হয়েছে আবার ওভারব্রিজও করা হয়েছে কিন্তু মাওনা চৌরাস্তায় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দোকান বসানোর কারণে যানজট প্রতিদিন লেগেই থাকে। পুলিশ এসব দেখেও না দেখার ভান করে।

ইজারাদার আলহাজ কামাল ফকির জানান, পৌরসভা থেকে আমি অস্থায়ীভাবে ইজারা নিয়েছি। ইজারার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় অস্থায়ীভাবে ইজারা আদায় করছি। তবে মহাসড়কের ওপর ভাসমান ফুটপাত ও কাঁচাবাজারের ইজারা না থাকলেও তিনি দৈনিক প্রতি দোকান থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছেন বলে জানান।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন করা হলেও তিন লেনই অবৈধ ফুটপাত ও কাঁচাবাজারের দখলে। মহাসড়কের ওপর ভাসমান বাজার ও সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট লেগেই থাকে। মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে মহাসড়কের ওপরেই বসানো হচ্ছে একের পর এক ভাসমান দোকান। মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখার জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল পুলিশি অভিযান চালানো হয়। তবুও স্থানীয় কথিত ইজারাদার ও সরকারদলীয় লোকজন অভিযানের পরপরই আবার দোকান বসিয়ে দেয়। ফলে যানজট লেগেই থাকে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ আনিছুর রহমান জানান, মহাসড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। যদি কেউ দোকান বসিয়ে ইজারা আদায় করে তাহলে তা অবৈধ। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল জানান, মাওনা চৌরাস্তাসহ মহাসড়কের ওপর অবৈধ দোকান বসানোর কোনো নিয়ম নেই এবং এইসব দোকান থেকে খাজনা আদায়ের কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে ভাসমান ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা হবে।

 

অনলাইন/কে

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.