টঙ্গীতে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার শুরু

বুধবার , ১১ জানুয়ারী ২০১৭, ৯:২৫ অপরাহ্ন

দলে দলে আসছেন মুসল্লিরা

:: প্রতিনিধি, টঙ্গী ::

রাজধানীর সন্নিকটে টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদীর তীরে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

এদিকে ইজতেমাকে সামনে রেখে এখন লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ নদীর পূর্বতীর। এ উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী সেজেছে নতুন সাজে। এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হচ্ছেন। অসংখ্য মুসল্লির পদচারণায় টঙ্গী নগরী যেন পেয়েছে নতুন প্রাণ। ১৩ জানুয়ারি ইজতেমা শুরু হলেও গতকাল বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন।

আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং আগামী ১৫ জানুয়ারি রোববার দুপুর অর্থাৎ জোহরের নামাজের আগে যেকোনো সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। এরই মধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদীতে ৭টি ভাসমান পন্টুন সেতু নিমার্ণ করেছেন।

১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, মহিলাদের জন্য মাস্তুরাত কামরা, হালকা নম্বর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক ১৮০টি বিশেষ ছাতা মাইকসহ ৩৮০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কায় এবারের বিশ্ব ইজতেমায় পাকিস্তানের নাগরিকদের ময়দানে আসা-যাওয়ার ভিসার ব্যাপারে সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ রয়েছে। বিদেশি মেহমানদের মধ্যে যারা ইজতেমা ময়দানে আসবেন, তাদের রিটার্ন টিকেট নিশ্চিত করে আসতে হবে। রিটার্ন টিকেট ছাড়া তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ার নির্দেশনা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক নিবাসে মেহমানদের রান্না-বান্নায় বিশেষ নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে তাদের ফুড পয়জনিং না হয়।

ইজতেমায় প্রথম দফায় খিত্তাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান : প্রথম পর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫), টাঙ্গাইল (খিত্তা নং-৬, ৭, ৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা নং-৯, ১০, ১১), মৌলভীবাজার (খিত্তা নং-১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা নং-১৩), মানিকগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪), জয়পুরহাট (খিত্তা নং-১৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা নং-১৬), রংপুর (খিত্তা নং-১৭), গাজীপুর (খিত্তা নং-১৮, ১৯), রাঙামাটি (খিত্তা নং-২০), খাগড়াছড়ি (খিত্তা নং-২১), বান্দরবান (খিত্তা নং-২২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা নং-২৩), শরীয়তপুর (খিত্তা নং-২৪), সাতক্ষীরা (খিত্তা নং-২৫), যশোর (খিত্তা নং-২৬, ২৭) অংশ নেবেন।

আইনশৃঙ্খলা জোরদার : বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। পাঁচ সেক্টরে ভাগ করে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারী) থেকে প্রায় ১২ হাজার পুলিশসহ র‌্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। তবে গত সোমবার থেকেই ময়দানের প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে র‌্যাবের কমিউনিকেশন উইং ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগল্স, বোমা ডিসপোজাল টিম, হেলিকপ্টার-নৌ টহল, ও ৩টি স্টাইকিং ফোর্স। র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ ইজতেমা মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখবেন। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী ৬ জন করে গোয়েন্দা সদস্য অবস্থান করবেন। তারা কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সিগনালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক অবহিত করবেন।

এছাড়াও তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন। ১৪টি গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্কাবস্থায় রাখা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করবেন।

বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের প্রতি পুলিশের আহ্বান : ১৩ থেকে ১৫ এবং ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি দু’পর্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক মুসল্লিকে তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান করতে হবে। অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং কোনো পোটলা, ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি দেখামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করতে হবে।

টাকা বা মূল্যবান সামগ্রীসহ একাকী বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাফেরা না করা এবং সবসময় টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও হকার ও ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। স্থায়ী দোকানের খাবার মুসল্লিদেরকে বিপদমুক্ত রাখবে। টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি বা খোয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা র‌্যাবকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইজতেমায় ২৪টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস : রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য ২৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৩ জানুয়ারি বাদ জুমা ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা এবং ১৪ জানুয়ারি লাকসাম-টঙ্গী বিশেষ ট্রেন চলবে। ১৫ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আপ মোনাজাত বিশেষ ৪ জোড়া এবং টঙ্গী-ময়মনসিংহ বিশেষ ২ জোড়া, ঢাকা-টঙ্গী ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

১০ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন ২ মিনিট পর্যন্ত টঙ্গী স্টেশনের দাঁড়াবে। সাপ্তাহিক বন্ধের সকল ট্রেনও ওই সময়ে চলাচল করবে। তবে এ লাইনে ১৫ জানুয়ারি ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং : বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকা : চট্টগ্রাম বিভাগের মুসল্লিরা উত্তরা গাউছুল আজম এভিনিউ (১৩নং সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড), ঢাকা বিভাগের মুসল্লিরা সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ি খালপাড় পর্যন্ত, সিলেট বিভাগের মুসল্লিরা উত্তরাস্থ ১২নং সেক্টর শাহমখদুম এভিনিউ, খুলনা বিভাগের মুসল্লিরা উত্তরা ১৬ ও ১৭নং সেক্টরের খালি জায়গা, রংপুর বিভাগের মুসল্লিরা কামারপাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড ও ১০নং সেক্টরের খালি জায়গা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুসল্লিদের পার্কিং প্রত্যাশা হাউজিং, বরিশাল বিভাগ থেকে আসা মুসল্লিরা ধউড় ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন পার্কিং (আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি জায়গা) এবং বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ঢাকা মহানগরীর মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন উত্তরাস্থ শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ এবং নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গায় পার্কিং করতে বলা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য মহাসড়ক পরিহার করে টঙ্গীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পাশে রাস্তার উভয় পাশ, টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ মাঠ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে টিআইসি মাঠ, গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা তেলিপাড়ার ট্রাকস্ট্যান্ড, চান্দনা চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ এবং নরসিংদী-কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীর কে-টু (নেভী) সিগারেট কারখানা সংলগ্ন পাশের খোলা স্থান ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা : জেলার তথ্য কর্মকর্তা মো. রাহাত হাসনাত জানান, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে গতকাল বুধবার থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বৃহত্তর জেলাগুলোর ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও দুই পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আগামী ১৫ ও ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের দিন সকাল ৬টা থেকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত সড়ক পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। টঙ্গীর কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়ক পথেও একই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে ।

মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম : ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রথম পর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পারভেজ হোসেন বলেন, ‘গাজীপুর সিভিল সার্জন টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছেন। সেইসঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, হৃদরোগ ইউনিট, বক্ষব্যাধি/ অ্যাজমা ইউনিট, ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, বার্ন ইউনিট, স্যানিটেশন টিম এবং ১৪টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও চক্ষু, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

ইজতেমায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা : টঙ্গী ডেসকো সূত্রে জানা যায়, ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে বরাবরের মতোই মোট ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে করে একটি গ্রিড অকেজো হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫টি ১১ কেভি ফিডার লাইন ও ১৯টি বিতরণ কেন্দ্র করা হয়েছে। হঠাৎ কোনো কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে যাতে বদল করা যায় তার জন্য স্ব স্ব স্থানে ৪টি সাব-স্টেশন ও ৫টি ট্রলি ট্রান্সফরমার রাখা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে ৪টি জেনারেটর সবসময় প্রস্তুত থাকবে।

পানি ও গ্যাস সরবরাহ : ইজতেমা আয়োজক তাবলিগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ওয়াসা, তিতাসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় ওয়াসা ও তিতাসগ্যাস কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ইজতেমা ময়দানে ১২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ১২ কি.মি. পাইপ লাইনের মাধ্যমে যা থেকে দৈনিক প্রতিঘণ্টায় প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি মুসল্লিদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এবারও নতুন করে ২ হাজার ৪৯৬টিসহ ৮ হাজার ১০৬টি স্থায়ী টয়লেট, গোসল ও ওজুখানা তৈরি ও মেরামত করা হয়েছে।

এছাড়া ওয়াসা কর্তৃপক্ষও তাদের গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ করবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ইজতেমা ময়দানের বিদেশি মেহমানখানায় ও ইজতেমা আয়োজকদের রান্না-বান্নার প্রয়োজনীয় স্থানে গ্যাস সংযোগের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তায় ধূলাবালি প্রতিরোধে প্রতিদিন পানি ছিটানো হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের আহ্বান : কামারপাড়া থেকে সুইচগেট পর্যন্ত তুরাগ নদীর সীমানা পিলার থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে গড়ে তোলা সব ধরনের স্থাপনা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন।

মিডিয়া সেন্টার : ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তরপার্শ্বে নিউ মুন্নু ফাইন কটন মিলস মাঠে টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে একটি অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া বলেন, মিডিয়া সেন্টারে বিদ্যুৎ ও কম্পিউটারসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ : ইজতেমা মাঠের উত্তরপার্শ্বে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস মাঠে টঙ্গী থানা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রতিবারের ন্যায় এবারও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৩ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা অসুস্থ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করবে। এছাড়াও টঙ্গী ঔষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ, ইবনে সিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, র‌্যাব, ইমাম সমিতিসহ অর্ধশতাধিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরিকৃত স্টলে বিনামূল্যে ঔষুধ সরবরাহ করবে।

বৃহস্পতিবার এসব স্টলগুলো উদ্বোধনকালে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলম, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণসহ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ইজতেমা কমিটি ও প্রশাসনের বক্তব্য : বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ প্রায় ৯৯ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২ জেলার মুসল্লিরা এ বছর দুই দফায় ইজতেমায় অংশ নেবেন। প্রথম পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন।

ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ডেসকো, তিতাস, ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, টঙ্গীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ করে চুরি, ছিনতাইরোধসহ মাদক ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ এবং এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ১২টি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণুমুক্ত রাখতে ১শ’ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। মশা-মাছি তাড়াতে ২৪টি ফগার মেশিনে মশানাশক ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে এবং রাস্তার ধূলাবালি রোধ করার জন্য প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি ছিটানো হবে।

 

অনলাইন/কে

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.