ফীচার
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চার দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ ‘জাবি’ শিক্ষার্থীদের

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (০১ আগস্ট) দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখায় কার্যত প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকালের মতো আজও উপাচার্য অধ্যাপক ড.ফারজানা ইসলাম তার কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি।

এখন পর্যন্ত তিনি রেজিস্ট্রারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার (০১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় ’প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন ফটকে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

গত ২৬ মে ভোরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন মামলা করে। সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই দাবিতে তাঁরা অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন।

আজ সকাল সাড়ে আটটায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক অবরোধ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময় ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে নয়টার দিকে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না হলে অবরোধ তুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে পাল্টা জবাব দেন শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে আসেন। ভেতরে ঢুকতে না পেরে তিনিও ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এ সময় সেখানে ছিলেন দুই সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, অধ্যাপক আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শেখ মনজুরুল হক, প্রক্টর তপন কুমার সাহাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা প্রায় ১০-১২ জন শিক্ষক।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজিস্ট্রার দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা আবারও তাঁদের দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে কোনো কথা হবে না। তোমরা কর্মচারীদের ভেতরে ঢুকতে দাও।’

শোক দিবস পালনের প্রস্তুতির জন্যও তিনি শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিতে আহ্বান জানান। তখন শিক্ষার্থীরা পাল্টা জবাব দেন, ‘আমরা এই আন্দোলনের ভেতর দিয়েই শোক উদ্‌যাপন করছি।’

এরপর ১০টা ২০ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্বল্প পরিসরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কালো ব্যাজ ধারণ ও সমাবেশ আয়োজিত হয়। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ব্যানারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানের একটা চেষ্টা চলছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সমিতির প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বড় অনুষ্ঠান রয়েছে। ৩ আগস্টের আগে আমার পক্ষে আর বসা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা লাগাতার অবরোধের যে ঘোষণা দিয়েছে তা অশুভ পদক্ষেপ। এ পর্যন্ত তাদের যাওয়া উচিত ছিল না।’

 

অনলাইন/এইচটি 

ফীচার | আরো খবর