খেলার মাঠে
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

“চাঞ্চল্য ও পদচারনা ফিরিয়ে আনতে চাই হকিতে”

:: সফিকুল ইসলাম রাসেল ::

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সব প্রার্থীই ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তাদের পরিকল্পনা। প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর এখন ফেডারেশন। ৩০ জুলাই শেষ হচ্ছে বর্তমান কমিটির মেয়াদ। এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনী উত্তাপে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন তিন প্রার্থী। খাজা রহমতউল্লাহ ও রশিদ শিকদার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলেও স্টেডিয়ামপাড়ায় পোস্টারিং করে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন ২০০৮ সালের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আদেল।

তবে অনেকের মতে, পুরনো ঢাকার ঊষা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ শিকদারকেই শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিতে পারেন সাজেদ আদেল। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াইটা হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইতিমধ্যে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বর্তমান দুই সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুর রশিদ শিকদার এবং অন্যজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদ এ আদেল।

তবে হকি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুর রশিদ শিকদারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনের আগে ভোটের লড়াইয়ে অনেকেই দাঁড়ানোর কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেন না। নানা চাপের মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এবারও সাধারন সম্পাদক পদে এমন জোর আলোচনাই আছে। বিশেষ করে আবদুর রশিদ শিকদার ও খাজা রহমতউল্লাহ সরকার দলীয় মনোভাবের থাকায় পরিস্থিতি ভিন্নখাতে মোড় নিতে পারে।

শিকদারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি আছে জনসংযোগ। কেউ কাউকে ছাড় না দিলে জমে উঠতে পারে বাহফে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন। অনেক আগ থেকেই সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন আব্দুর রশিদ শিকদার। যে কারনে বিভিন্ন জেলা চষে বেড়িয়েছেন। জেলা কাউন্সিলরদের সাথে মত বিনিময় করেছেন। সাবেক তারকা হকি খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের সাথে দেখা করেছেন। ফোরাম লিডারদের সাথে দেখা করেছেন। মতামত নিয়েছেন। সকল কাউন্সিলদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রেস্ট দিয়েছেন। বিভিন্ন মহলে ঈদকার্ড পাঠিয়েছেন। অ্যাডহক কমিটি ও সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন খাজা রহমতউল্লাহ।

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেকেই এগিয়ে রাখলেন সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ শিকদার।১৭ বছর ধরে ঊষা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রশিদ। ছিলেন এশিয়া কাপের তিন আসরে বাংলাদশে দলের ম্যানেজার। বর্তমান এশিয়ান হকি ফেডারেশনের ডাইরেক্টরও তিনি। ঊষা ক্রীড়া চক্র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ শিকদার বলেন,প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা। হকির উন্নয়নে ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে ক্লাব জেলা ও বিভাগিয় কাউন্সিলদের নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

জেলা ভিত্তিক যুব হকি, জাতীয় টুর্নামেন্ট আবারও চালু করতে চান। বয়স ভিত্তিকভাবে ১৪, ১৮ ও ২১ বছর হকিলীগ করতে চান। স্কুল ভিত্তিক হকিতে চাঞ্চল্যতা ফিরিয়ে আনতে চান। ।হকি ফেডারেশনের মোট কাউন্সিলর ৮৬জন, যাদের ভোটেই নির্বাচিত হবে আগামির সাধারণ সম্পাদক। তার কথায়, ‘পুরনো ঢাকার সংগঠক ও কাউন্সিলররা সবাই এক হয়ে প্যানেল এবং আমাকে সমর্থন দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

১৯৭৩ সালে লীগে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয় পুরনো ঢাকার মাহুতটুলী স্পোর্টিং ক্লাব। পরে ওই ক্লাব বিলুপ্ত হয়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র গঠিত হয়। ১৭ বছর ধরে দেশের হকির অন্যতম জায়ান্ট ঊষা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন রশিদ শিকদার। দায়িত্ব নেয়ার পরেই দলকে একটি শিরোপা এনে দেন। পুরনো ঢাকা আরমানিটোলায় পাঁচতলা ভবন করেন ক্লাবের নামে। লীগে হ্যাটট্রিক শিরোপা এনে দেন দলকে। ২০০১ সালে ফেডারেশনের সদস্য, পরে ট্রেজারার এবং এখন সহ-সভাপতি। এছাড়া এশিয়ান হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত ডাইরেক্টর তিনি। জাতীয় দলের এশিয়া কাপের তিন আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার ছিলেন।

তার কথায়, ‘খন্দকার জামিল, সাজেদ আদেল ও সামসুল বারীর সঙ্গেও কাজ করেছি। অথচ এমন অবস্থায় কখনোই পড়েনি হকি। গত ছয় বছরে কোনো কাউন্সিলর সভা কিংবা এজিএম হয়নি। ক্লাবগুলো বিদ্রোহ করে। পাঁচটি ক্লাবকে বাইরে রেখে লীগ করেছেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক। পরে আমি উদ্যোগ নিলে ক্লাবগুলো খেলতে আসে। বিদেশি দলগুলো ঢাকায় খেলতে আসার পেছনে অনেকটা আমার অবদান রয়েছে। জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলরদের যাতায়াত খুব একটা নেই ফেডারেশনে। এ অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন প্রয়োজন। চাঞ্চল্যতা ও পদচারনা ফিরিয়ে আনতে চাই হকিতে। সেজন্যই আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছি।’

তিনি নির্বাচন সর্ম্পকে বলেন আশার থেকে বেশি সাড়া পাচ্ছি। সামনেই বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ যার মূল ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে কোয়ালিফাইন না খেলে সরাসরি এশিয়া কাপ খেলতে পারে এমন ব্যবস্থা করতে চান। নিয়মিত প্রিমিয়ার লীগ খেলা চালু করা, প্রতিযেগিতা করা, ন্যাশনাল টিম কে রেডি করা,নিয়মিত স্কুল লীগ করা। আর নির্বাচিত হলে বাকী সকল কাউন্সিলরদেরকে, মেম্বারদেরকে সাথে নিয়ে একটি টিম আকারে সকলের পরামর্শ নিয়ে, সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চান দেশের প্রতিটা কোনায় কোনায় হকি ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। হকিতে আবারও সবার পদচারণায় মুখোরিত করতে চান এটাই তার মূল লক্ষ্য।

 

ভোরের পাতা/ই

খেলার মাঠে | আরো খবর