ঘুড়ির উৎসব ‘সাক্রাইন’

শনিবার , ১৪ জানুয়ারী ২০১৭, ৬:২৩ অপরাহ্ন

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

পৌষের শেষ আর মাঘের শুরু। দুই মাসের সন্ধিক্ষণে উত্সবে মেতে ওঠে বাঙালি। যে উত্সবের সত্যিকারের রূপ দেখা যায় পুরান ঢাকায়। আর এই পৌষ সংক্রান্তি পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। দিনভর চলে এই আয়োজন। আকাশ ভরে ওঠে রঙ বেরঙের ঘুড়িতে। আর আঁধার নামতেই সেই আকাশ আলোকিত হয় ফানুস-আতশবাজির ঝলকানিতে।

জানা যায়, মোঘল আমল থেকেই বাংলায় এই উত্সব পালিত হয়ে আসছে। ঢাকার নবাবরা এ উত্সবের প্রবর্তন করেন বলে জানা যায়। পৌষ আর মাঘের সন্ধিক্ষণে খাজনা আদায় শেষে নবাবরা ঘুড়ি ওড়ানোর উত্সব আর খানাপিনার আয়োজন করতেন। কালক্রমে এটি পরিণত হয় সাধারণ মানুষের উত্সবে।

সাক্রাইন উত্সবের মূল আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো। সকাল থেকেই পুরান ঢাকার প্রায় সব বাড়ির ছাদে বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাজির হয় নাটাই আর ঘুড়ি নিয়ে। প্রজাপতি, পঙ্খিরাজ, ঘর গুড্ডি, বাক্স গুড্ডি নানারকমের বাহারি ঘুড়ি রঙ ছড়ায় শ্বেত-শুভ্র আকাশে। সারাদিন চলে ঘুড়ি কাটাকাটির খেলা। আকাশ চলে যায় ঘুড়িয়ালদের দখলে।

সন্ধ্যা নামতেই ঘুড়ি নামিয়ে তরুণরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে দুঃসাহসিক আগুনের খেলায়। প্রতিটি ছাদেই কিছু সময় পরপর অন্ধকার সরিয়ে জ্বলে ওঠে আগুন। ফায়ারওয়ার্কসের পাশাপাশি ওড়ানো হয় ফানুস।

রাতের আঁধারে ঘুড়ির সুতার সাথে আলোকিত ফানুস বেঁধে আকাশে উঁড়িয়ে দেয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশে যেন ধুমকেতুর গুচ্ছ জ্বলছে। এখানেই শেষ নয়, পুরান ঢাকার আকাশ রঙিন করে জ্বলে ওঠে হাজারো আতশবাজি। পৌষকে বিদায় দেওয়ার এ যেন অন্যরকম পৌষ সংক্রান্তি উত্সব।

ভারতে পৌষ সংক্রান্তি নামেই পরিচিত। নেপালে এটা পরিচিত মাঘী নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে পরিচিত।

মকরসংক্রান্তি হল সেই ক্ষণ যাকে ঘিরে এ উৎসব পালিত হয়। পুরান ঢাকায় সাকরাইন পৌষের শেষ দিন পালিত হয়। তাই বাংলা একাডেমির পঞ্জিকা মতে ১৪ জানুয়ারি এ উৎসব পালন করার কথা।

আর শাঁখারিবাজারের আদি হিন্দু পরিবারগুলো লোকনাথ পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ জানুয়ারি পৌষের শেষ দিন মেনে এ উৎসব পালন করে। তবে এবার পৌষ মাস ২৯ দিন হওয়ায় সব জায়গাতেই সাক্রাইন হবে ১৪ জানুয়ারি।

সাকরাইনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে চলে প্রস্তুতি। সুতোয় কাচ, রং দিয়ে ‘মাঞ্জা’ দেওয়া হয়। শাঁখারিবাজারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকার, আকৃতির ঘুড়ি। অনেকে ব্যক্তিগতভা  বে বানিয়ে নেন ঢাউস ‘ল্যাঞ্জার’ ঘুড়ি। ঘুড়ির লেজকে পুরান ঢাকায় বলে ল্যাঞ্জা।

সাক্রাইন উপলক্ষে উৎসবের আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র। গেণ্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, চকবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুর মাতবে ঐতিহ্যের এই উৎসবে। আকাশে উড়বে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগাবে গান।

 

অনলাইন/এইচটি 

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.