লাইফস্টাইল
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

গর্ভাবস্থায় চিকুনগুনিয়া

:: ডাঃ রুশদানা রহমান তমা ::

চিকুনগুনিয়া একটি মশা-বাহিত ভাইরাস রোগ। গর্ভাবস্থায় এই রোগটি হতে পারে। মে মাস থেকে জুলাই/আগস্ট পর্যন্ত এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী থাকে।
উপসর্গ:

১) জ্বর: ৯২% রোগীরই সাধারণত জ্বর থাকে যা সামান্য থেকে তীব্র ও হতে পারে। জ্বর সাধারণত: ২৪-৪৮ ঘণ্টা থাকে।

২) হাড় ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া যা ৮৭% রোগীর ক্ষেত্রে হতে পারে এর সাথে কোমর ব্যথাও থাকতে পারে। ব্যথা সাধারণত সকালের দিকে বেশী থাকে।

৩) ৫০% ক্ষেত্রে রোগীর চামড়ায় ফুসকুড়ি বা র্যাাশ ও চুলকানি হতে পারে। অনেকের মুখে বা জিহ্বায় ব্যথাযুক্ত ঘা ও হতে পারে।

৪) কারো কারো ক্ষেত্রে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা বা চোখে সমস্যাও হতে পারে।

৫) প্রচুর বমি ও ডায়রিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু সমস্যা ৩ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস বা তার বেশী সময় পর্যন্ত থাকতে পারে।

গর্ভকালীন জটিলতা: চিকুনগুনিয়া গর্ভাবস্থায় হলে সাধারণত একে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বলে ধরে নিতে হবে। । এসময় জ্বরের জন্য জরায়ু সংকোচনের ফলে গর্ভপাত বা পেটে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার ২২ সপ্তাহের পূর্বে সাধারণত: এই ভাইরাস গর্ভস্থ শিশুকে আক্রান্ত করে না। তবে ২২ সপ্তাহ গর্ভাবস্থার পর কোন মায়ের রক্তে এই ভাইরাস এর পরিমাণ বেশী হলে ডেলিভারির সময় বাচ্চা আক্রান্ত হতে পারে। বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস বাচ্চাতে যায় না।

চিকিৎসা: এই ভাইরাসের কোন এন্টিভাইরাস ওষুধ বা টিকা নেই। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বড়ি (সর্বোচ্চ ১ গ্রাম দিনে ৪ বার) বা সাপোজিটরি ব্যবহার করে বা স্পঞ্জিং করে জ্বর কমিয়ে রাখতে হবে। প্রচুর পানি ও লবনযুক্ত পানি (২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২ লিটার) পান করতে হবে এবং পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ পরিহার করে গরম পরিবেশে থাকতে হবে। অস্থিসন্ধিতে বরফের সেক দেয়া যেতে পারে। অবস্থা জটিল হলে ডাক্তারের পরামর্শ-মত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি ও গাইনী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ভোরের পাতা/এমএ

লাইফস্টাইল | আরো খবর