কালের সাক্ষী ভরতের দেউল

রবিবার , ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৭:০৬ অপরাহ্ন

:: মোঃ মারছিফুল হাসান ::

ছোট একটা নদী । এঁকে বেঁকে চলে গেছে বহুদুরে । তার দু’পাশে রয়েছে অসংখ্য গ্রাম । এই নদীই আবার খুলনা যশোরকে বিভক্ত করেছে ।

খুলনা জেলার শোলগাতিয়া গ্রাম হতে নদী পার হলে যশোর জেলার আগরহাটি গ্রাম । তারপর ভরত গ্রাম । এই গ্রামেই রয়েছে বিশাল একটি প্রত্ন তাত্ত্বিক নির্দশন । এর নাম ভরতের দেউল । স্থানীয় জনগনের নিকট দীর্ঘদীন যাবত এটি ভরতের দেউল বা ভরত রাজার দেউল নামে পরিচিত ।

এ প্রত্ন স্থলে খ্রিস্টীয় বিশ শতকের গোড়ার দিকে ১২২২ মি. উঁচু এবং ২৬৬ মি. পরিধি একটি ডিবির অস্তিত্ব ছিল । ১৯২৩, ১৯৮৫ এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সালে ডিবিটিতে প্রত্ন তাত্ত্বিক খনন কাজ পরিচালনার ফলে একটি বহু ধাপ বিশিস্ট স্থাপনার কাঠামো আবিস্কৃত হয় । প্রথম ধাপটি ক্রমাকার, মধ্যের ধাপ গুলো কত গুলো বদ্ধ প্রকোষ্ট দিয়ে তৈরি। উপরের ধাপটি সম্পূর্ন বিলীন হয়ে গেছে । এর বর্তমান উচ্চতা সমুদ্রপ্রিষ্ট ১৪,৭২ মি. বদ্ধ প্রকোষ্ট গুলোকে জমাট মাটি দিয়ে ভরাট করে এর উপর ১১,৩০ বর্গ মি. পরিমাপের একটি শীর্ষ অট্টালিকা ছিল বলে অনুমিত হয় । কিন্তু সে সব আজ আর অক্ষত নাই ।

ক্ষত বিক্ষত এই স্থাপনার সাথে কিছু মৃতপ্রায় কারুকার্যময় ইট পোড়া মাটির গোলক খন্ডিত ফলক চিত্ত পাওয়া গেছে, যে গুলো খুলনা বিভাগীয় যাদুঘরে রক্ষিত আছে । এ দেউলের পাশে রয়েছে বিশাল একটি বটগাছ । এর বয়স নির্নয় করা কঠিন । এর আসল বয়সটা মানুষের জানার বাইরে রয়ে গেছে । শত শত বছরের সাক্ষী এ বট গাছ এখনও দাড়িয়ে আছে স্ব-মহিমায় । দেউলের উত্তর পশ্চিম দিকে একটি পুকুর আছে , নাম ঠাকুর পুকুর । এ থেকেও এখানে হিন্দু রাজাদের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।

তবুও দেউল সম্পর্কে এলাকার মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই । এ যেন ইতিহাসের এক নিরব সাক্ষী ।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

অনলাইন/কে 

WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.
WARNING: Assigned ad is expired! Extend the term or Delete it.