রুপসী বাংলা
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কাপাসিয়ায় শিক্ষক লাঞ্চিত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

:: কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি ::

গাজীপুরের কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম কলেজের অনিয়মিত ছাত্রের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় কলেজ শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। একই ঘটনা ও ছাত্রলীগের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবাদ করেছে ছাত্রলীগ কলেজ শাখা। ৭ আগষ্ট দুপুর ১২টার দিকে কলেজ মাঠে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৬ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে কলেজের অনিয়মিত ছাত্র দিপ্ত রক্ষিত ও ফাইজুল ক্যাম্পাসে এসে কলেজের শৃংখলা বিঘ্ন ঘটায় ও শিক্ষার্থীদের উত্তোক্ত করে। শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এর নজরে এলে এসব করতে নিষেধ করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের উপর অমানুষিক ও অমানবিক আচরণ করে।

কলেজের অনার্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফরিদ মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুছ ছালাম, সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রসায়ন ম. হা. ওয়াজিদুর রহমান খান, সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অর্থনীতি রওশান আরা বেগম, সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামীক স্টাটিজ মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ, প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ উপজেলা সভাপতি আবুদল কাইয়ুম, কলেজ শাখা’র সভাপতি মাহমুদুল হাসান মামুন, সাধারণ সম্পাদক মাছুম প্রধান, সৈকত সিকদার, আতিকুল ইসলাম, সোহানুর রহমান রাকিব, শিক্ষার্থী জাহিদ, ইমরান, আমিনুল , দিপ্তী, সোনিয়া, অর্ণব, সোহান, নোমান দাস ও পলি প্রমুখ।

অধ্যক্ষ আবদুছ ছালাম বলেন, কুলাঙ্গারদের বিচার করব। জেলা প্রশাসকের সাথে আগামী কাল সভা হবে। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। ছাত্রলীগ সহযোগিতা করবে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অধ্যাপক রওশন আরা জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করি। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি, কলেজে রাজনীতি করতে হবে, দেশ পরিচালনা করতে হলে রাজনীতি করতে হবে, তাই বলে শিক্ষককে মারতে হবে? তিনি আরও বলেন, এই কলেজের প্রশাসনিক দক্ষতা নেই। প্রশাসনিক অদক্ষতা কারণে এসব হচ্ছে। আজ কোথায় কলেজের পরিচালনা পর্ষদ। এই কলেজে শিক্ষকরা গ্রুপিং করছে। আমি বলেছি, কলেজটিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে প্রশাসন, শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ সহ সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা ইচ্ছা করলে ক্লাস বর্জন করতে পারতাম কিন্তু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটবে বলে করিনি। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং বিচারের দাবী করেন। অধ্যাপক মহা. ওয়াজিদুর রহমান খান বলেন, সংশ্লিষ্ঠ ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হউক এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সঠিক ঘটনা লিখুন। কয়েকটি গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের নাম লেখা হয়েছে যা ঠিক নয় প্রয়োজনে সংশোধনী লিখুন।

উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, এটি গাজীপুরের প্রাচীণ ও ঐতিয্যবাহি কলেজ। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছে এই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা। একটি পত্রিকায় ও অনলাইনে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার হয়েছে কিন্তু হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। ছাত্রলীগ এর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তিব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীর বিচার দাবী করছি।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজে যাতে এমন অবাঞ্চিত ঘটনা আর না ঘটে কতৃপক্ষের কাছে নিবেদন করেন।

এদিকে কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন বলেন, কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ অত্যন্ত প্রাচীণ একটি কলেজ। কলেজটি বেশ সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। আমি দুর্ণীতির সাথে একমত না হওয়ায় কতগুলি মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের নিয়ম না মেনেই চূড়ান্ত বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। কিন্তু কোনো চূড়ান্ত বহিস্কার পত্র প্রদান না করেই তাঁর সাময়িক বরখাস্তের সময় দেওয়া বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপিল করলেও দুই বছরের অধিক হলেও তাঁর কোনো সুরাহা হচ্ছেনা। আমি এর একটা সুরাহা চাই।

রুপসী বাংলা | আরো খবর