জাতীয়
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ইসি গঠন : রাষ্ট্রপতিকে আ.লীগের চার দফা প্রস্তাব

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে ৪ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে বুধবার (১১ জানুয়ারী) বিকেল ৪টা ৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা এই আলোচনা চলে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান। তার আগেই প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা বঙ্গভবনে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের দরবার হলে পৌঁছানোর পর বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ দেন।
এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচটি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির।

সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ছিলেন প্রতিনিধিদলে।

চার দফা প্রস্তাব : নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক এখতিয়ার প্রদান এবং সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে :

১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

২। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

৩। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৪। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধি-বিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপ শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বের হওয়ার সময় জানিয়েছেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এদিকে, বৈঠক থেকে বের হওয়ার পথে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে সঠিক সময়ে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করি। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনোও ধরনের সংকটের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এ কমিশনের মেয়াদ শেষে নতুন যে ইসি দায়িত্ব নেবে, তাদের অধীনে ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।

এবারও যে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’ করে নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন, সে বিষয়টি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আগেই জানিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

এবার চার দফায় মোট ২৩টি দলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানান আবদুল হামিদ।

 

অনলাইন/কে

জাতীয় | আরো খবর