জাতীয়
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘ইতিহাসই একদিন এ রায়ের বিচার করবে’

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল দেওয়া আপিলের রায় নিয়ে সব ধরনের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘আমরা সরকার বা বিরোধীদলের ট্র্যাপে (ফাঁদে) পড়ব না। রায় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সমালোচনামূলক বক্তব্য আদালতে তুলে ধরলে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন কমিশনের বক্তব্যের বিষয়ে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্য আসে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সংবিধানের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে খায়রুল হক বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনতে হলে আবারও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে যেহেতু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না। সেহেতু এটা রাখা সংবিধান পরিপন্থী বলেও মনে করেন তিনি।

সাবেক এ প্রধান বিচারপতি বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি কি প্রধান শিক্ষক নাকি, আর অন্য বিচারপতিরা ছাত্র নাকি, যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে (প্রধান বিচারপতি) অন্য বিচারপতিদের পরিচালনা করতে হবে? সংবিধানের ৯৪ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে তো বিচারপতিরা সবাই স্বাধীন।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে দুদককে চিঠি দিয়ে সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে নির্দেশ করে সেখানে তাদের ওপর (সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সদস্য বিচারপতিদের) নির্ভর করব কীভাবে?’

সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ বলেছেন। সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে তিনি ‘অপরিপক্কতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আপিল বিভাগের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন , তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার কথা বলছি।

এ সময় জয়নুল আবেদীনকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা সংযত থাকবেন। রায় নিয়ে রাজনীতি করবেন না, ইতিহাসই একদিন এ রায়ের বিচার করবে।’

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হয়েছিল ষোড়শ সংশোধনীতে।  হাই কোর্ট গতবছর ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। এরপর ১ অগাস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানানোর কথা রয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের।

 

অনলাইন/এইচটি

জাতীয় | আরো খবর