জাতীয়
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা তিনটি চ্যানেল বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক ধরনের অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী মো. একলাস উদ্দিন ভূইয়া।

বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল- স্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলার সম্প্রচার বন্ধে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানিতে পরিবেশক সংস্থাগুলো আইনজীবী নিয়োগ করেছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হচ্ছে। শুনানিতে স্টার জলসা ও স্টার প্লাসের পক্ষে লড়বেন আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু। আর জি-বাংলার পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার শামসুল হাসান।

রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মো. একলাস উদ্দিন ভূইয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু, স্টার জলসা, স্টার প্লাসের পক্ষে রুল শুনানিতে অংশ নেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। অপরদিকে জি বাংলার পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার সামসুল হাসান।

দুপুরের পর রিটকারী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া তৃতীয় দিনের মতো শুনানিতে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার জলসা ও স্টার প্লাস, জি বাংলা টিভি প্রদর্শনের মাধ্যমে নারী-পুরুষদের পরকীয়ায় জড়াতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। দিন দিন সমাজের চরম অবক্ষয় ঘটছে।’

একলাস উদ্দিন বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরা হিন্দি ভাষায় আকৃষ্ট হয়ে নিজস্ব মাতৃভাষা হারিয়ে ফেলছে। অনেক পরিবারে ছোট বাচ্চাগুলো বাংলা ভাষা শেখার পরিবর্তে হিন্দি ভাষায় কথা বলে, যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির জন্য চরম ক্ষতি। ভিনদেশি ভাষা আমাদের কোমলমতি শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আদালতে কয়েকটি পত্রিকার সংবাদ উপস্থাপন করে আইনজীবী বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এর ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। অনেক মহিলা দেখা যায়, এসব সিরিয়ালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতেও ভুলে যায়। একটি সংবাদে দেখা যায়, নিজের ঘরে আগুনে পুড়ে বাচ্চা মারা যাচ্ছে অথচ মা অন্য বাড়িতে গিয়ে স্টার জলসা দেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের পুরুষ-নারীদের এসব টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে পরকীয়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। অনেক গৃহবধূ গৃহহীন হয়ে পড়ছে। এসব চ্যানেলে পারিবারিক কূটচাল, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া, হিংসাত্মক কার্যক্রমে প্রলুব্ধ করা হয়। এরই মধ্যে এসব কার্যক্রমের কারণে ২০ জনের মতো নারী-পুরুষের আত্মহত্যা ও খুনের ঘটনা ঘটছে। এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিপন্থী।

২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ভারতীয় এই তিন টিভি চ্যানেল বন্ধে কেন নির্দেশে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলা হয়, দেশের ঘরে-ঘরে বাড়ছে ভারতীয় ধারাবাহিক নাটকের জনপ্রিয়তা। এসব সিরিয়াল-প্রীতির কারণে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্রমেই দর্শক হারাচ্ছে। দেশ হারাচ্ছে নিজস্ব সংস্কৃতি। স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের ‘পাখি’র প্রেমে প্রাণ গেল এক যুবক ও মেয়েশিশুর।’ সেই প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে ভারতীয় চ্যানেলে বন্ধ চেয়ে রিটটি দায়ের করা হয়।

 

অনলাইন/এইচটি 

জাতীয় | আরো খবর